ঘর থেকে বের হতেই পারছেন না চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৫ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

নিরাপত্তা অজুহাতে চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিনকে পুলিশ গৃহবন্দি করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী শাহানাজ শারমিন জালাল।

রোববার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে এসে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন। এ সময় জালালের পক্ষে একটি ও নিজে আরেকটি চিঠি কমিশন কর্মকর্তা দেন শাহানাজ শারমিন।

চিঠিতে তিনি জালাল উদ্দিনের গৃহবন্দিদশা থেকে মুক্তি ও নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং সার্কেল এএসপি ও দুই থানার ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন।

পরে ফিরে যাবার সময় শাহানাজ শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন। তাকে নিজ বাড়িতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে বন্দি করে রেখেছে। বাড়ি থেকে কোনোভাবেই বের হতে দিচ্ছে না। বাড়ির প্রবেশ পথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা সার্বক্ষণিক অবস্থান করছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি বলেন, আমাদের কর্মী-সমর্থকরা প্রচারণায় গেলেই পেটানো হচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং তো দূরের কথা ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না জালাল।

স্বামীর পক্ষ থেকে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর মতলব দক্ষিণে আমাদের বাড়ি থেকে তালা ভেঙে কর্মীদের পিটিয়ে নির্বাচনী পোস্টারসহ সব ধরনের নির্বাচনী সামগ্রী লুট করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) রাজন কুমার দাস এবং মতলব উত্তর ও দক্ষিণ থানার ওসি বিএনপির কর্মীদের নৃসংসভাবে নির্যাতন করছে, নির্বাচন করতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের স্বশস্ত্র কর্মীদের নগ্নভাবে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে। তারা সরকার দলের নেতাকর্মীদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এমতাবস্থায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালানো তো দূরের কথা তাদের স্বপদে বহাল রাখা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আমরা আস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু কমিশন এসব গণমাধ্যমে জানার কথা। অভিযোগও করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থার প্রতিফলন আমরা দেখিনি। এমন অবস্থা চলতে থাকলে মানুষের আস্থা নির্বাচন কমিশন থেকে উঠে যাবে। সুষ্ঠু নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং এর স্বার্থে ওই তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে প্রত্যহারের দাবিও জানান তিনি।

জেইউ/এমবিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :