কেন মেয়র হতে চান, জানালেন আতিকুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি আপনাদের ভালোবাসায় মেয়র নির্বাচিত হলে, মেয়র হিসেবে আকাঙ্ক্ষা থাকবে- একটি সুন্দর, যানজট-জলজটমুক্ত আধুনিক ঢাকা শহর গড়ার। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রাণের ঢাকা গড়তেই আমি মেয়র হতে চাই।’

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘আমি কেন মেয়র হতে চাই’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, একজন মেয়রের আকাঙ্ক্ষা থাকে একটি সুস্থ ও সচল ঢাকা গড়ে তোলার। যে শহরে আমরা সবাই বাস করি, যে শহরে আমাদের ছেলেমেয়েরা বেড়ে উঠছে, অন্য সবার মতো একজন মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমারও চাওয়া- সুন্দরভাবে শহরটাকে আধুনিক বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাই অসচেতনভাবে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে শহরটা নোংরা করি, এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মাঠগুলোর সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করব। ফুটপাতের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির বার্তা প্রধান খালেদ মুহিউদ্দিন, এটিএন নিউজের এডিটর প্রভাষ আমিন, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির বার্তা প্রধান খালেদ মুহিউদ্দিন মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনি তো আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, এরপরও কীভাবে প্রধানমন্ত্রীকে কনভিন্স করে মেয়র প্রার্থী হলেন?

উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন, আমি বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ছিলাম। রানা প্লাজা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সময় ওই কঠিন মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ নিয়েছি পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সে সময় বার বার কথা হয়েছে। এ ছাড়াও যখন প্রথমবার মনোনয়নের সময় দল থেকে ১৮ জন মনোনয়ন কিনেছিলেন। সেখানে ইন্টারভিউ হয়েছিল। সেখানে আমাকে যোগ্য প্রার্থী মনে করায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমি দুইবার ইন্টারভিউ দিয়েছি। প্রথমবার রিট খারিজ হওয়ায় আমি কিছুটা সময় পেয়েছি অনেক এলাকায় পরিদর্শন করেছি সমস্যা চিহ্নিত করার সুযোগ পেয়েছি। সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা করেছি।

দেশ টিভির নির্বাহী সম্পাদক সুকান্ত গুপ্ত অলক প্রশ্ন করেন, আনিসুল হকের পরিকল্পনা ছাড়া আপনার নিজস্ব কোনো পরিকল্পনা আছে কী? হকারদের উচ্ছেদ এবং পুনর্বাসন করবেন, এর জায়গা কোথায়?

উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের যে মাঠগুলো আছে সেখানে মাটির নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে পুনর্বাসনের ব্যবস্থার সঙ্গে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ছাড়া হকারদের এলাকা ভিত্তিক কার্ড করে দিয়ে সপ্তাহে দুদিন করে অন্যান্য দেশের মতো বসানোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান জানতে চেয়ে বলেন, ৫৪টি সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে সব মেয়রই নগর সরকার চায়। এ বিষয়ে দল যদি বিরোধিতা করে, তবুও নগর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন কি-না?

উত্তরে এই মেয়র প্রার্থী বলেন, আমি নির্বাচন পছন্দ করি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমি আগেও প্রস্তুত ছিলাম এখনও আছি। এখন সময় এসেছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠান এক ছাতার নিচে এনে কাজ করার। যদি নির্বাচিত হই, তাহলে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বর্ষাকাল শুরু হবে। তাই প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সেজন্য এক ছাতার নিচে কাজ করাটা জরুরি।

এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুনের এক প্রশ্নের উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করবো সুন্দর নগরী গড়ে তোলার। এজন্য অবশ্যই সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ৫৪টি সংস্থাকে এক সঙ্গে নিয়ে কাজ করা অনেক কঠিন কাজ। মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম চ্যালেঞ্জের যে ঘোড়ার পিঠে চড়েছেন সেখানে চলা আসলেই কঠিন। তবুও তিনি যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন আশা করি তিনি চ্যালেঞ্জে জয়ী হবেন।

এএস/এমবিআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :