বিজিবি-গ্রামবাসী সংঘর্ষের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি ফখরুলের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৫ এএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বিজিবি ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, ‘কোনো মানুষকেই বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা আইনসম্মত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অস্ত্র থাকলেই তা ত্বরিৎ প্রয়োগ করা সুশাসনের লক্ষণ হতে পারে না। বরং তা বেপরোয়া ও বেআইনি কর্মকাণ্ডেরই অংশ।’

তিনি বলেন, ‘সুদীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় বিএসএফ সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা করে আসছে। এর সঙ্গে দেশের বিজিবিও যদি যুক্ত হয় তাহলে সীমান্তবর্তী মানুষজনের জীবনের আর কোনো নিরাপত্তা রইল না। এখন জনগণ প্রশ্ন করছে- বিজিবি কার স্বার্থ রক্ষা করছে?’

বিএনপি মহাসচিব বিবৃতিতে বলেন, ‘এ রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাংলাদেশে জঙ্গলের রাজত্ব স্থায়ীভাবে আসন লাভ করবে। গণসম্মতিহীন সরকার প্রতিষ্ঠিত থাকলেই কেবলমাত্র প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেআইনি কর্মকাণ্ড চালাতে উৎসাহী হয়। কারণ তাদের কোনো জবাবদিহিতা করতে হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে মহাভোট ডাকাতির মহাআয়োজন অনুষ্ঠিত করার জন্যই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনানুগ কাজে অনীহা প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। গুম-খুন-অপহরণ-নারী শিশু নির্যাতন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে গিয়েই সামাজিক অপরাধীরা দেশব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সামাজিক অনাচার এখন ভয়াবহ মাত্রা লাভ করেছে। আতঙ্ক ও ভয় দেশের মানুষকে গ্রাস করে ফেলেছে। দেশ এখন নৈরাজ্যের অন্ধকারে ডুবে গেছে। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী অঞ্চলেও রক্ত ঝরছে। ক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে বলেই রক্তঝরার পরিমান দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব তার বিবৃতিতে বলেন, ‘এই অরাজক পরিস্থিতি চলতে পারে না। অত্যাচারিত জনগণের অন্তঃরুদ্ধ ক্ষোভ যেকোনো মুহূর্তেই বিস্ফোরিত হবে। দেশের মানুষ সকল ভয়ভীতি অতিক্রম করে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর এলাকায় বেতনা সীমান্তে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন গ্রামবাসীর নিহত ও অসংখ্য মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি।’

কেএইচ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :