ডাকসুতে ছাত্রলীগকে জয়ী হতে সাবেক নেতাদের ভূমিকায় থাকার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনে জয় পেতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের কার্যকর ভূমিকায় থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের এক মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ফের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের অছাত্রদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। ছাত্রদলের অছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বাগাড়ম্বর করছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্বের সৃষ্টি হোক, সেটা আমরাও চাই।’ এসময় স্থানীয় পর্যায়ে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের কাছে ভোট চাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক দিক বিবেচনা করেই ডাকসুতে জয় পেতে হবে ছাত্রলীগকে বলে জানান ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগে রাজনীতিতে জিততে হবে, তাহলেই ডাকসুতে জয় পাওয়া সম্ভব। রাজনীতিতে না জিততে পারলে ভোট জেতা যায় না। একদিকে শেখ হাসিনার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অপরদিকে শেখ হাসিনাবিরোধী শক্তির নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। রাজনীতির অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে ডাকসুতে জয় লাভ করতে হবে।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ ভাগ ছাত্র হলে থাকে আর চল্লিশ ভাগ ছাত্র ঢাকা শহর ও আশপাশের শহরে থাকে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের তাদের সঙ্গে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করতে হবে। প্রত্যেক হলে অ্যালামনাই আছে, বিভাগ এলামনাই আছে, জেলা সমিতি আছে-তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।’

ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান যারা রয়েছেন তারা একত্রিত হলে কেউ ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেলকে হারাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুবাস সিংহ রায়।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘ক্যম্পাসে যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। ডাকসুতে আমাদের বিজয় নিশ্চত করতে হবে। ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র নেতারা স্বপ্রণোদিত হয়ে ডাকসুতে ছাত্রলীগকে বিজয়ী করতে, কাজ করে যেতে হবে।’

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের জয়লাভের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার কল্যাণে ক্যম্পাসে ছাত্রনেতাদের মাস্তানির দিন শেষ। কোনো ক্যম্পাসে এখন কেউ মাস্তানি করতে যায় না। ছাত্রলীগ নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় ফিরিয়ে এনেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যায় সবার আগে ছাত্রলীগ এগিয়ে আসে। সুতরাং ছাত্রলীগ ডাকসুতে বিজয় অর্জন করবে বলে আমরা আশা করি।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বিএনপি ও এরশাদের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী লীগের সময়ে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ অবস্থা-এই দুই অবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে পরামর্শ দেন।

ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছাত্রলীগকে বিশেষ ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়ে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ভোটারের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, হল শাখা, অনুষদ শাখা ও বিভাগ শাখা নিয়ে প্রায় দশ হাজারেরও বেশি ছাত্রলীগের লিস্টেড পদধারী নেতাকর্মী আছে। সুতরাং ঐক্যবদ্ধ ছাত্রলীগকে কেউ ডাকসুতে হারাতে পারবে না।’

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, গোলাম রাব্বানী চিনু, আনোয়ার হোসেন, মারুফা আক্তার পপি, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, আওয়ামী লীগের তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আফজাল হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, বদিউজ্জামান সোহাগ, সাইফুর রহমান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার রোটন, এস এম জাকির হোসাইন, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ।

এইউএ/এসআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :