মামলা করতে করতে ঐক্যফ্রন্টই পঙ্গু হয়ে যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৪ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
ফাইল ছবি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের করা মামলায় আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাবে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নয় মামলা করতে করতে তারা (ঐক্যফ্রন্ট) নিজেরাই পঙ্গু হয়ে যাবে।’

মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

২৪ ফেব্রুয়ারি ঐক্যফ্রন্ট গণশুনানির আয়োজন করেছে। কিন্তু তাদের অভিযোগ তাদের কোনো জায়গা দেয়া হচ্ছে না। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তো খোলা আছে। সেখানে কোনো প্রকার বাধা-বিঘ্নের বিষয় তো নেই।’

গণশুনানি আয়োজনের ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্ট কী অনুমতি পাবে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেন অনুমতি? কিসের জন্য? গণ-তামাশার জন্য? গণশুনানি কাকে বলে? গণশুনানি নাকি গণ-তামাশা? গণ-তামাশার জন্য অনুমতি চাইলে আমি তো পুলিশ কমিশনারকে বলবো বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিতে।’

সংসদে বিরোধী দল ও ১৪ দল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইনু ও মেনন জানিয়েছেন, ভোটের রাজনীতিতে তারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এখন তাই সংসদে গিয়ে বিরোধিতা করতে রাজি নন। ১৪ দলের মুখপাত্র তাদের ধৈর্য ধরতেও বলেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সমালোচনা পজিটিভলি নিয়েছি। যারা মুখ খুলেছেন, সমালোচনা করেছেন সেটার দরকার আছে। সরকার ভালোভাবে চলার জন্য, পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিটা ইতিবাচক ও শক্তিশালী হতে পারে বিরোধী দলের মাধ্যমে। গতিশীল হতে পারে সংসদ। সমালোচনা না থাকলে সরকারের ভুল ধরা যায় না, সংশোধন হওয়া যায় না। সেদিক থেকে আমরা সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। ভুলকে কারেক্ট করার জন্য সমালোচনা দরকার।’

এখান ১৪ দল ভাঙার ব্যাপারে ও বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেউ যদি ১৪ দল ভাঙতে পারে বলে শঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন থাকেন তাদের বলছি, উদ্বিগ্ন বা শঙ্কার কারণ নেই। এই আছে মান-অভিমান, আবার চলে যাবে। এটা কোনো পার্মানেন্ট সমস্যা না।’

১৪ দলের শরিকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ শুধু ভোটের রাজনীতিতেই ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃণমূলে, উপজেলা বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তারা ধোয়াশা দেখছেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সব আলাপ-আলোচনা করেই করা হচ্ছে। তাদের মান-অভিমানের পেছনের কারণটা কী তা আপনারা আমার চেয়েও কম জানেন না। তেমন কোনো সমস্যা নেই। ছোট-খাটো মান-অভিমান আছে। এসব কেটে যাবে।’

ডাকসু নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের জন্য কোনো প্যানেল তৈরি করে দেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এটা ওরা নিজেরাই করবে। প্রধানমন্ত্রীও ছাত্রলীগের কমিটির জন্য ভূমিকা রেখেছেন। ছাত্রলীগ একটা শর্ট লিস্ট করেছে। সেজন্য একটা কমিটিও করে দিয়েছেন।’

জেইউ/এসএইচএস/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :