‘ভারত কি খুব উন্নত দেশ, ওখানে আমলাদের ট্রেনিং দিতে হবে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১৪ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের পরে একটি মজার বিষয় লক্ষ্য করলাম- আমাদের দেশের দেড় হাজার আমলাকে ট্রেনিং দেয়ার জন্য ভারতে পাঠানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন- ওটা (ভারত) কি খুব উন্নত দেশ, যে ওখানে আমাদের আমলাদের ট্রেনিং দেয়া হবে?’

আজ শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার রচিত দুটি গ্রন্থের প্রকাশনা-পাঠ ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর হাফিজ বলেন, ‘সত্যিকারের সিদ্ধান্ত যদি এমন হতো, প্রশংসা করতাম। আমাদের দেশে ওই দেশ (ভারত) থেকে দেড় হাজার আমলা ট্রেনিংয়ের জন্য আসছে। একটা বিষয়ের ওপরে যে, কীভাবে গভীর রাতে ভোট কারচুপি করতে হয়। কারণ এটার জন্য শুধু ভারত কেন সারা বিশ্বে আমরা ট্রেনিং দেয়ার দক্ষতা অর্জন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার শেষ সরকার নয়, যথা সময়ে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটবে। সেই পতন বিএনপি ঘটাতে পারবে কি-না আমি সেই ব্যাপারে নিঃসন্দেহ নই, আমরা পারবো কি-না জানি না তবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত লড়াকু। তারা এই ধরনের স্বৈরশাসককে কখনও বরদাস্ত করবে না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হতো যদি গণতন্ত্রের মাধ্যমে, ব্যালটের মাধ্যমে তাদের পরিবর্তন হতো সেটা দেশের জন্য খুব ভালো হতো। হয়তো এমনভাবে পরিবর্তন হবে সেটা আমরা চাই না। হয়তো এমন শক্তি পরিবর্তন ঘটাবে কিংবা ধর্মীয় উগ্রবাদের আবির্ভাব হবে মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশে যে ধরনের ধর্মীয় শক্তি বর্তমানে আসর জাঁকিয়ে বসেছে সেই ধরনের পরিবর্তন আমরা বাংলাদেশে চাই না।

হাফিজ বলেন, ‘এই দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য। বাংলাদেশের অভ্যুদয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। সেই গণতন্ত্রকে বিদায় দিয়েছে এই সরকার। আমরা চেয়েছিলাম গণতন্ত্রের মাধ্যমে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের বিদায় হোক কিন্তু সেটি তারা মানতে রাজি নয়। সুতরাং আমরাও দর্শকের ভূমিকায় থাকলাম অপেক্ষা করে দেখব কীভাবে তাদের পরিবর্তন হয়। কীভাবে তাদের পতন হয়। তবে যেতে তাদেরকে হবেই বাংলাদেশ থেকে নইলে এদেশের ইতিহাস সভ্যতা প্রকৃতি সব কিছুই মিথ্যে হয়ে যাবে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অন্যদের মধ্যে দলটির উপদেষ্টা পরিষদের হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈমুর আলম খন্দকার, কবি আবদুল হাই শিকদার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

কেএইচ/এমবিআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :