তেঁতুল হুজুরদের কলঙ্ক মুছে ফেলতে হবে : ইনু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৭ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৯
ফাইল ছবি

ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িকতা, সামরিক শাসন ও তেঁতুল হুজুরদের কলঙ্ক মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেন, ‘আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িকতা, সামরিক শাসন ও তেঁতুল হুজুরদের কলঙ্ক মুছে ফেলি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি। এই কলঙ্ক যদি মুছতে চান বিভ্রান্ত হবেন না। পরহেজগার জঙ্গি বলে কিছু নেই। সৎ রাজাকার বলে কিছু  নেই। সব জঙ্গি, সব রাজাকার মানুষরূপী দানব। দানবদের ধ্বংস করতে হবে। সাপের শেষ রাখতে নেই, বেঈমানের কোনো ক্ষমা নেই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা খুনি নই, আমরা পশু নই। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি।’

মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইনু বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে এই মাটিতে পাঁচটা কলঙ্ক রচিত হয়েছে। একাত্তরের যুদ্ধে রাজাকারের কলঙ্ক, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার কলঙ্ক, ১৫ আগস্টের পর সামরিক শাসনের জবর দখলের কলঙ্ক, সংবিধান থেকে চার নীতি বাদ দেয়ার কলঙ্ক ও একুশে আগস্টে শেখ হাসিনাকে হত্যার কলঙ্ক।

তিনি বলেন, এই পাঁচটা কলঙ্ক বাঙালি জাতির ললাটে আছে। যে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু উপহার দিয়েছেন সেই বাংলাদেশকে যদি নিজ গুণে, নিজ পরিচয়ে উদ্ভাসিত করতে হয়, সামনে এগুতে হয়-এই পাঁচটা কলঙ্ক কপালে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

ইনু বলেন, এই কলঙ্ক মুছতেই হবে। সেই কলঙ্ক মোছার ঐতিহাসিক কাজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই শুরু হয়েছে। উনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, সংবিধানে আবার চার নীতিকে পুনঃস্থাপন করে, একুশে আগস্টের হত্যার বিচার করে আমরা এসব কলঙ্ক মোছার পর্বে আছি। এই কলঙ্ক যদি মুছতে পারি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ নিজ গুণে, নিজ আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, তাই ১৪ দলের প্রয়োজন আছে। আমরা একসঙ্গে থাকবো এবং সব কলঙ্ক মোচন করে আমরা হাসবো। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাব।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া প্রমুখ।

এইউএ/এমবিআর/এমএস