স্বাধীনতাকামীদের ষড়যন্ত্রকারী আর বিরোধীদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার: রব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৮ এএম, ২৬ মার্চ ২০১৯
ফাইল ছবি

স্বাধীনতাকামীদের ষড়যন্ত্রকারী বলে বিরোধিতাকারীদের ক্ষমতার ভাগিদার করাসহ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

সোমবার রাজধানীর গুলিস্তানে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য তিনি এমন অভিযোগ করেন।

আ স ম আবদুর রব বলেন, তারা ক্ষমতায় থেকে আজ মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। দেশে হত্যা-ধর্ষণ, লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। শাসকদের এ চরিত্র থেকেই বোঝা যায়- তারা কেন ৭১ এর স্বাধীনতাকামীদের ষড়যন্ত্রকারী বলে বিরোধিতাকারীদের ক্ষমতার ভাগিদার করাসহ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত করছে।

তিনি বলেন, বাংলার জনগণ এ অবস্থা বেশিদিন মেনে নেবে না। অবিলম্বেই এদেশের ছাত্র-যুবক, বিভিন্ন শ্রম-কর্ম-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক স্বাধীন দেশের উপযোগী রাজনীতি ও রাষ্ট্র-প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবে।

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফকে নিয়ে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস গঠন করেছিলেন। এ নিউক্লিয়াসের প্রচেষ্টায় ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯ এর ১১ দফার ভিত্তিতে ছাত্র-গণ আন্দোলন, ৭০ এর নির্বাচনসহ সকল আন্দোলনকে স্বাধীনতা অভিমুখে পরিচালিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। ১ মার্চ স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন, ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন, ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠও হয়েছিল নিউক্লিয়াসের পরিকল্পনা মাফিক। এই সকল কর্মসূচি ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণার পটভূমি তৈরি করেছিল। ৭ মার্চের ভাষণে এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম-এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম- এ দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করেন নিউক্লিয়াস, বিএলএফ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এ ভাষণ তৈরিতে নিউক্লিয়াস, বিএলএফ ছাড়াও পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের অবদান ছিল।

স্বাধীনতাকামীদের বিরুদ্ধে ‘বাঁশের লাঠি তৈরি করো- অতি বিপ্লবীদের খতম করো’ স্লোগান দেয়া হয়েছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতার মূলধারার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না তারা ১ মার্চ ছাত্রলীগের মিছিলে যারা বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো এ স্লোগান দিয়েছিল তাদের ওপর বাঁশের লাঠি তৈরি করো- অতি বিপ্লবীদের খতম করো (এ কথার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাকামীদেরই বুঝানো হয়েছিল) স্লোগান দিয়ে হামলা করেছিল।

জেএসডি সভাপতি বলেন, এ হামলাকারীরাসহ যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, ভারতে গেলেও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন তাদেরই মুখপাত্র হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ফসল আত্মসাৎকারী ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- ষড়যন্ত্রকারী মহল বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়াতে চেয়েছিল। তাহলে বঙ্গবন্ধু কি স্বাধীনতা চাননি? আর স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ানোর ষড়যন্ত্রকারী কারা? তাদের নাম প্রকাশ করা উচিত। এ ধরনের কথার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, মো. সিরাজ মিয়া, তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, মোশারফ হোসেন, আবদুর রাজ্জাক রাজা, এস এম রানা চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল তারেক, অ্যাডভোকেট সৈয়দা ফাতেমা হেনা, নুরুল আবছার, হাজী আখতার হোসেন ভুইয়া, আবুল মোবারক, তৌফিক উজ জামান পীরাচা প্রমুখ।

এইউএ/বিএ