বাজেটের সুফল সবাই না পেলে কিসের উন্নতি!

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ১৭ জুন ২০১৯

জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়েম আমির ফয়সল বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বীকৃতি দিতে চাই। দেশীয় পণ্য উৎপাদনে এ বাজেট অধিকতর উৎসাহ জোগাবে। তবে বাজেটের গুণগত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাংক খাতে যে সমস্যা বিরাজ করছে তার যথাযথ সংস্কার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাজেটের আকার এবং রাজস্ব আদায়ের মধ্যে বিরাট ফারাক দেখা যায়। বাজেটের সুফল যদি মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও বিত্তহীন মানুষের কাছে না যায় তাহলে এ উন্নতিতে লাভ নেই।’

সোমবার দুপুরে গুলশানের লেকশোর হোটেলে ‘টেকসই প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার লক্ষণ ও ক্রমবর্ধমান সম্পদের বৈষম্য’ শীর্ষক আলোচনা, ড. সায়েম আমির ফয়সলের অর্থনীতির ওপর প্রথম গবেষণা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আতিকুল ইসলাম। জাকের পার্টি চেয়ারম্যান পীরজাদা মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদী ও মহিলা ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারাহ্ আমীর ফয়সলও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তরুণ অর্থনীতিবিদ ড. সায়েম আমীর ফয়সল ঋণ খেলাপি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলায় সরকারের কঠোর উদ্যোগ কামনা করেন। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ প্রশ্রয় পেলে অর্থনীতির ক্ষতি হবে। দেখা যায়, ঋণ দান ও গ্রহণ বিশেষ এক শ্রেণির মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ। মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত কিংবা মফস্বলের মানুষ এদের মতো ঋণের সুবিধা ভোগ করতে পারে না। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স যথাযথ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দেশে বিরাজমান অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রশ্নে সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে বলেন, সম্পদের বৈষম্যের হার প্রকট। বিত্তবান, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও বিত্তহীনের সম্পদের বৈষম্য আশংকাজনক। এটি সামাজিক সংকটে রূপ নিয়ে রাষ্ট্রীয় সংকটে যাতে পরিণত হতে না পারে সে ব্যাপারে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। বৈষম্যকে কেন্দ্র করে যাতে একটি শ্রেণি সংকট তৈরি না হয় প্রধানমন্ত্রীকে সে ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

ড. সায়েম আমীর ফয়সল দেশে তরুণের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও যুব শক্তির বিকাশে যুব কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠনের জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮.২%। কিন্তু তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানবিহীন জিডিপি প্রবৃদ্ধি কোনভাবেই সুফল বয়ে আনবে না।

তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে স্টার্টআপদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দকে অপ্রতুল আখ্যা দিয়ে এ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দানের দাবি জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে যুব শক্তি রয়েছে সরকারের যথাযথ বরাদ্দ পেলে খুব সহজেই বাংলাদেশ স্টার্টআপ নেশনে পরিণত হতে পারে। শিক্ষা খাতের বাজেট বরাদ্দ প্রশংসনীয় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং রফতানির বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি। কারণ তৈরি পোশাক শিল্প ও রফতানি খাতের যদি বিকল্প না খুঁজি তাহলে কি অবস্থা দাঁড়াতে পারে, তা ভেবে দেখতে হবে।

ড. সায়েম আমীর ফয়সল জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার সিস্টেম, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এবং একই সাথে ইসলামকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষায় ডি-র‌্যাডিকেলাইজেশন ক্যাম্প দেশজুড়ে স্থাপন করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যাত্রায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

এমআরএম/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :