বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কিছু থাকে না : সিপিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ২৪ জুন ২০১৯

নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেট ধনীদের জন্য উল্লেখ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা আবদুল্লাহ আল কাফী বলেন, এ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে। বাজেটে পোশাক মালিকদের জন্য প্রণোদনা রাখা হয়েছে, কিন্তু শ্রমিকদের জন্য কিছু বলা হয় না। বাজেটের আগে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। তারা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু বাজেটে তাদের জন্য কিছু বলা নেই।

সোমবার (২৪ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৯-২০: নাগরিক প্রতিক্রিয়া ও মতবিনিময় সভা' শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন নাজমুল হক প্রধান।

এ সময় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জেকুজ্জামান রতন বলেন, এ বাজেট হয়েছে ব্যবসায়ী-শিল্প মালিকদের স্বার্থে। এখানে শ্রমিকদের জন্য কিছু রাখা হয়নি। বাজেটের মূলমন্ত্র হচ্ছে ধনীরা আরও ধনী হবে, গরিবরা আরও গরিব হবে। এটা গরিব মারার বাজেট।

সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাহ অভিযোগ করেন, ‘বাজেট পেশের আগে জনগণের মতামত নেয়া হয় না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না। এমনকি সংসদীয় কমিটিগুলোতেও এ বিষয়ে মতমাত চাওয়া হয় না।’

এরকম পরিপ্রেক্ষিতে তার প্রশ্ন, তাহলে বাজেট আসলে প্রণয়ন করে কে?

সরকারে অন্যতম শরিক দলের এই নেতা আরও বলেন, মন্ত্রীরা প্রায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা বলেন, যা হবে প্রযুক্তিভিত্তিক। যে দেশে প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের বেতনের জন্য মাসব্যাপি অনশন করতে হয়, সেদেশে কীভাবে এই বিপ্লব হবে, মাথায় আসে না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেছেন, সরকার একদিকে উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে, ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান দিচ্ছে। অন্যদিকে কাজের খোঁজে ভূমধ্যসাগরের যুবকেরা জীবন দিচ্ছে। আহা উন্নয়ন!

এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বাজেটের বরাদ্দ নিয়ে আলোচনার চেয়ে ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। সরকার প্রতিবছর লাগামহীনভাবে প্রকল্পের ব্যয় বাড়াচ্ছে। আর ১০০ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৬০ টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে। তাই সরকারের নীতিতে পরিবর্তন না আসলে বরাদ্দ বাড়িয়েও লাভ নেই। সব লুট হবে।’

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা।

পিডি/এসএইচএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :