মানুষের মনে ঈদ আনন্দ নেই : মোশাররফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৯
ফাইল ছবি

সরকারের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণেই মানুষের মনে ঈদ আনন্দ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

ঈদের দিন সোমবার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সারাদেশের বেশির ভাগ এলাকা এখন বন্যাকবলিত, ডেঙ্গু মহামারি রূপ ধারণ করেছে, ডেঙ্গু আতঙ্কে দেশের বেশির ভাগ মানুষ। মানুষের মনে যে ঈদের আনন্দ, সেই ঈদের আনন্দ নেই। বিএনপির পরিবারের মধ্যেও ঈদের আনন্দ নেই।’

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এ নেতা বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, সরকারের অদক্ষতা, তাদের ব্যর্থতা, তাদের উদাসীনতার কারণে আজকে দেশের মানুষ সঠিকভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারছে না।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘অন্যায়ভাবে’ কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘অত্যন্ত ভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে এসেছি। যেহেতু আমাদের নেত্রী আমাদের পাশে নেই। অন্যায়ভাবে আমাদের নেত্রীকে কারাগারে রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, দেশে জনগণের সরকার নেই বলে, জনগণের প্রতি এ সরকারের দায়বদ্ধতা নেই বলেই সব ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজ্য চলছে। এ নৈরাজ্য-অব্যবস্থাপনা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে হবে।’

ট্রেনে সিডিউল বিপর্যয় ও সড়ক-মহাসড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টির পেছনে সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন খন্দকার মোশাররফ।

ঈদের নামাজ ও কোরবানির পর্ব শেষে দুপুর ১২টায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারা জিয়াউর রহমানের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করেন। কবর জিয়ারতের পর নেতারা বনানীতে আরাফাত রহমান কোকোর কবরও জিয়ারত করেন।

এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবউন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, নবী উল্লাহ, সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতি বছর খালেদা জিয়া ঈদের দিন জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিতেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

কারাগারে যাওয়ার পর ডায়াবেটিকস, আর্থারাইটিসসহ নানা রোগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়।

কেএইচ/এনডিএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :