‘এই দেশ ঠিক করা কঠিন, খুবই কঠিন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৫ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কার্যকরী সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য মইনুদ্দিন খাঁন বাদল বলেছেন, ‘এই দেশ ঠিক করা কঠিন, খুবই কঠিন। কারণ, যারা আইন তৈরি করেন, তারাই আইন ভাঙেন। আর যারা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে তারা প্রতিমুহূর্তে আইন লঙ্ঘন করছেন।’

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘যাত্রী অধিকার দিবস ঘোষণা ও আলোচনা সভা’য় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বাদল বলেন, ‘আমরা একটা নতুন জিনিস দেখছি, সন্ত্রাস দমন করতে হবে। পুলিশ তা খুব আনন্দের সঙ্গে নেয়। কারণটা হচ্ছে, সন্ত্রাস দমন করতে গেলে তো এক এলাকায় সন্ত্রাসী ধরা পড়ে দুইটা আর বেকুবরা (সাধারণ) ধরা পড়ে ৯৮টা। দে পয়সা দে। সকালে পয়সা দে, বিকেলে ছাড়া পাবি। এই নিয়ম-শৃঙ্খলা, অমুক তমুকের কথা বলে আসলে লাভ নাই।’

তিনি বলেন, পৃথিবীর উন্নত অনেক দেশে অনেক নিয়ম আছে। প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী যায়, বৃটেনে কিংবা আমেরিকাতে। রাস্তা বন্ধ করে না। সামনে একটা গাড়ি, পেছনে আরেকটা গাড়ি, ব্যাস চলে যাচ্ছে। আর নিউজিল্যান্ডের নারী প্রধানমন্ত্রী তো নিজে নিজে বাজার করতে যান। পেছনে একটা লোক। তো বাংলাদেশে এইটা বলেন। প্রধানমন্ত্রী অনেক ব্যস্ত, তার জন্য ঢাকার রাস্তা বন্ধ থাকবে।’

‘ঢাকার বন্ধ রাস্তা ক্লিয়ার করতে করতে আরও ২-৩ ঘণ্টা লেগে যায়। প্রধানমন্ত্রী অনেক ব্যস্ত, হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন। ইনসাইড দ্য টাউন হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন। আমরা জনগণ সেটাকে সমর্থন করব। কিন্তু রাস্তা বন্ধ নয়’,- বলেন তিনি।

বাদল বলেন, ‘হকারদের বসার জায়গা ফুটপাত না। ফুটপাত ঠিক করেন। আর সেটা করতে যদি পুলিশ ব্যর্থ হয়, তাহলে ওর (পুলিশের) দরকার নাই তো? আমার এলাকায় এক পুলিশ কনস্টেবল বানাইছিলাম। সে আমারে ভালো কথা কইছে। ‘কনস্টেবলের চাকরি, বেতন আমার দরকার নাই, পোশাকটা থাকলেই হবে’।

তিনি বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতি না, সাধারণ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলতে হবে, গাড়ির থেকে চাক্কা বড়ো, এমন জিপে যারা ওঠেন, তারাও যাত্রী। সরকারই তাদের জন্য করছে। তাদের জন্য কিছু করতে হবে না। সাধারণ যাত্রীদের জন্য করতে হবে।

‘সরকারে যারা আছেন, বিশেষ করে এই পার্লামেন্টে। সংসদের শতকরা ৭০ জন কোটিপতি। তাদের জন্য আইন (সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন) করার কী দরকার। তারা এসব বুঝেও না। তারা বাসে চড়েছে ৩০ বছর আগে। আপনে হের কাছে কইতেছেন, এইটা করেন, সেইটা করেন। এগুলো সে কিছু জানেও না।’

বাদল বলেন, ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষ এখনও হেঁটে চলাচল করে। বারবার করে বলছিলাম, তাদের জন্য অন্তত ফুটপাতগুলো ঠিক করেন। একদিন ঠাট্টা করে প্রধানমন্ত্রীকে বললাম, ফুটপাতগুলো ঠিক করলে তো ডায়াবেটিস রোগী কমে যায়। লাখ লাখ মানুষ হাঁটছে। ফুটপাত দখলমুক্ত হলে হাঁটা মানুষের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। ফুটপাত ঠিক হচ্ছে না কেন? কারণ, ফুটপাত থেকে কোনো ফিডব্যাক নাই।

‘বিরাট বিরাট ফ্লাইওভার কারা ব্যবহার করেন? কয়টা বাস উঠে ফ্লাইওভারে? সব তো প্রাইভেটকার। তারা যাতে আরও আরামে যাতায়াত করতে পারে, সেজন্যই একের পর এক ফ্লাইওভার হচ্ছে। অথচ বলা হচ্ছে, ফ্লাইওভার নাকি করা হচ্ছে যাত্রীদের কল্যাণে। দেশে ফ্লাইওভার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।’

সভায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমাকে মিথ্যা চাদাঁবাজির মামলায় গ্রেফতারের পর দেশের সচেতন মহল যেভাবে প্রতিবাদ করেছিল, এতে আমি অভিভূত। যত বাধা-বিপত্তি আসুক, যতদিন দেশে যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য, সড়ক নিরাপত্তা তথা যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের সঙ্গে নিয়ে যাত্রী অধিকার আন্দোলন চালিয়ে যাব।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্ময়ক জোনায়েদ সাকি সভায় বলেন, সড়কে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার কারণে আমরা যে পরিমাণ জিডিপি হারাচ্ছি, তা রোধ করা গেলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতো।

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ মজুমদার বলেন, যোগ্য চালকের সংকট, ছোট যানবাহনের আধিক্য ও দৌরাত্ম্য, আইনের অপপ্রয়োগ জিইয়ে রেখে সড়কে নিরাপত্তা বা যাত্রী অধিকার সুরক্ষিত হবে না।

জেইউ/জেডএ/পিআর