আ.লীগের দুর্নীতির কথা এখন অন্যদের বলতে হচ্ছে না : ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেরাই নিজেদের দুর্নীতির প্রমাণ দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধন করা হয়।

ফখরুল বলেন, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আজকে আওয়ামী লীগের যে দুঃশাসন দুর্নীতি নির্যাতন নিপীড়ন সেটি অন্য কাউকে বলতে হচ্ছে না। বাতাসে কল নড়া শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদক ধরা পড়ল ফেয়ার শেয়ার নিতে গিয়ে। সেই শেয়ার আবার এক দুই কোটি টাকা নয় ৮৬ কোটি টাকা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মজার ব্যাপার হলো, যার সঙ্গে কথা হলো অর্থাৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কথোপকথন ইতোমধ্যে মোবাইলে বের হয়ে গেছে। আজকে কি অবস্থায় দেশকে নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, ভিসি যাদেরকে আমরা সম্মান করি, যাদের মাথায় রাখি, তিনিও ঘুষ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঢাবি ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। ভর্তি হচ্ছে বিনা পরীক্ষায় অর্থাৎ সেখানেও দুর্নীতি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সবাই রাস্তায় নেমেছে। গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছে, তারা বলছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। দেশের মানুষ তাহলে যাবে কোথায়?

ফখরুল বলেন, ঢাকা শহরে ৬০টি ক্যাসিনো, পত্রিকায় আসছে এর প্রত্যেকটি চালাচ্ছে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতারা। আজকে প্রমাণ হয়েছে এ সরকার দুর্নীতিতে মদদ দিচ্ছে। প্রমাণ হয়েছে এ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

ফখরুল আরও বলেন, জনগণ বুঝতে শুরু করেছে এ সরকার যতদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশে আইন থাকবে না। ন্যায় বিচার থাকবে না। মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। এমন একটি দেশ বানানো হয়েছে যেখানে একটি ছোট্ট শিশুও ধর্ষিত হচ্ছে। আজকে হত্যা করা হচ্ছে খুন করা হচ্ছে তার কোনো বিচার হচ্ছে না। মানুষের মনে একটা ভয়ের সৃষ্টি করেছে সরকার।

বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি এখন হাঁটতে পারেন না, অন্যের সাহায্য নিয়ে তাকে উঠে দাঁড়াতে হয়। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে অথচ তাকে সুচিকিৎসা পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। সুচিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দিতে বারবার দাবি জানানো হলেও সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কেএইচ/এএইচ/এমএস