তারেক রহমান আয়ের উৎস দেখিয়েছেন ক্যাসিনো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আয়ের একটি উৎস হিসেবে ক্যাসিনো দেখিয়েছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। রোববার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সভার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন দাবি করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে দেখেছি এবং অনেকেই সেটি বলেছেন। সেটি হচ্ছে তাদের (বিএনপি) যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তিনি যে লন্ডনে আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন সেখানে না কি তিনি তার আয়ের একটি উৎস দেখিয়েছেন ক্যাসিনো থেকে তার আয় হচ্ছে। এটা আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। অনেকেই এই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নিশ্চয়ই আপনারাও সেটি লক্ষ্য করেছেন।

অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে- বিএনপির এমন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এই দাবি গত দশ বছর সময় ধরে শুনে আসছি। আসলে তো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের ব্যর্থতার দায় নিয়ে বহু আগেই মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করার দরকার ছিল।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর টাকা ধরা পড়েছে সিঙ্গাপুরে এবং তার পাচার করা ২০ কোটি টাকা বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে। বিএনপির অর্থমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজে কালো টাকা সাদা করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন আজকে সাজা ভোগ করছেন কেন? এতিমের টাকা এসেছে এতিমখানার জন্য। সেই টাকা এতিমখানার জন্য ব্যয় না করে তিনি তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেছেন। সেই কারণে তিনি সাজা ভোগ করছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে বলবো আয়নায় নিজের চেহারা দেখার জন্য।

দেশটা জুয়াড়িদের দেশ হয়ে গেছে ফখরুলের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, আমি ওনাকে বলবো যে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখার জন্য। বাংলাদেশের ক্যাসিনো কালচার শুরু করেছিল কে? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে মদ, জুয়া, হাউজি বন্ধ করেছিলেন। সেগুলো আবার চালু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। মদ, জুয়া, হাউজিসহ এবং উদাম নৃত্য এইগুলো আবার জিয়াউর রহমানই চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় যখন বেগম খালেদা জিয়া '৯১ সালে সরকার গঠন করেন, তখন কিন্তু এই ক্যাসিনো কালচার আবার ষোলকলায় পূর্ণ করেন। মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা এবং মোসাদ্দেক হোসেন ফালু ওনারা বিভিন্ন ক্লাবের ক্যাসিনোর সাথে যুক্ত ছিল। তারাই শুরু করেছিলেন।

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান সম্পর্কে হাছান মাহমুদ বলেন, এটা দীর্ঘ দিন ধরে দেশে চলে আসছে, এটা হঠাৎ করে হয়নি। এগুলোকে সমূলে উৎপাটনের জন্য প্রধানমন্ত্রী অভিযান শুরু করেছেন। সেখানে কে কোন মতের, কে কোন পথের সেটি দেখা হচ্ছে না। আমি বরং মনে করি বিএনপি মহাসচিবের সরকারকে সাধুবাদ জানানো দরকার।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব গতকাল আরও একটি কথা বলেছেন, কেঁচো খুড়তে গিয়ে না কি সাপ বেরিয়ে আসছে। ওনাদের যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উনি তো বড় অজগর সাপ। যেন সব গিলে খেয়ে ফেলে। কারণ, তার নেতৃত্বেই তো হাওয়া ভবন করা হয়েছিল। হাওয়া ভবন খুলে সেখানে দশ পারসেন্ট কমিশন বাণিজ্য করা হতো। খোওয়াব ভবন খুলে সেখানে আমোদ-ফুর্তি করা হতো। সুতরাং বিএনপির তো এ নিয়ে কথা বলার কোনো নৈতিক অধিকারই নেই। যারা দেশটাকে পর পর পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন, উপ-কমিটির সদস্য ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, আনিস আহম্মেদ প্রমুখ।

এইউএ/এনএফ/জেআইএম