বিএনপির পুরনো ট্যাবলেট আর কাজ করবে না : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১৪ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

বিএনপির ভারত বিরোধিতার পুরনো ট্যাবলেট আর কাজ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ভারত বিরোধিতা, সেটিকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তাতে এই পুরনো ট্যাবলেট আর কাজ করবে না। বিএনপির এই পুরনো ভারত বিরোধিতার যে ট্যাবলেট, এ ট্যাবলেট আর কাজ করবে না।’

রোববার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সফর নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে অনেকগুলো সমঝোতা স্মারক এবং চুক্তি করেছেন। প্রত্যেকটি চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশের স্বার্থ শুধু সংরক্ষণ নয়; বরং ভারতের কাছ থেকে আমরা স্বার্থ আদায় করেছি।’

সিঙ্গাপুর আজ সমৃদ্ধ দেশ কেন- প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুর সমৃদ্ধ দেশ হয়েছে, মূলত সিঙ্গাপুর বন্দরকে পৃথিবীর দেশগুলোর জন্য খুলে দেয়ার কারণে। এখন যদি ভারত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে, আমাদের তো রয়্যালিটি দিতে হবে। তাদের জাহাজে যতগুলো পণ্য আসবে সেটার জন্য রয়্যালিটি দিতে হবে। সেটি পরিবহনের জন্য আমাদের রয়্যালিটি দিতে হবে। এ সহজ বিষয়টা বিএনপি নেতারা যে বোঝেন না তা নয়, বোঝেন। বুঝেও জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কথাগুলো বলেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে রাডার নিয়ে ভুল ও অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। ভারত ২০টি রাডার কেনার জন্য অনুদান দেবে এবং এককালীন টাকা দেবে। যেটি আমাদের ফেরত দিতে হবে না।’

সেই অনুদান থেকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ২০টি রাডার কিনবে। কারণ কোস্টগার্ডের ভালো রাডার সিস্টেম নেই জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় থাইল্যান্ড, মিয়ানমারের জাহাজ এসে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। ভারত থেকেও মাঝে মধ্যে আসে, আসে না তা নয়।’

এই রাডার সিস্টেমের মালিকানা এবং পরিচালনা বাংলাদেশই করবে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটি নিয়ে যে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে সেটি অত্যন্ত অমূলক।’

ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো প্রবাহের ২০০ ভাগের একভাগ পানি সাবরুম একটি এলাকা, ছোট্ট শহর। সেখানে খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। সেখান থেকে নেবে। এখনও যে তারা (ভারত) পানি নেয় না, তা নয়। এখন বরং সেটিকে একটি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে আনা হয়েছে।’

‘এতদিন সেখান থেকে পানি অবৈধ ভাবে উত্তোলন হতো। এগুলো সবই অর্থনীতির স্বার্থে করা হয়েছে’ বলেন হাছান মাহমুদ।

এলপিজি কীভাবে হয় প্রশ্ন রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খন্দকার মোশাররফ সাহেব তো সয়েল সাইন্সের অধ্যাপক ছিলেন। উনি নিশ্চয়ই বোঝেন, না কি বিএনপিতে যোগ দেয়ার পরে উনি মূর্খ হয়ে গেছেন আমি জানি না। কারণ যেভাবে কথা বলছেন মূর্খরাও এভাবে বলে না।’

এলপিজি বাংলাদেশে প্রধানত দুটি খাত থেকে আসে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি হচ্ছে আমাদের দেশে সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টন এলপিজি আমদানি হয়। বাল্কে আমদানি হয় যেগুলো আমাদের দেশে বেসরকারিভাবে কয়েকটি প্ল্যান্ট সেগুলোকে বোতলজাত করে এবং সেগুলো সারাদেশে বিতরণ করা হয়। আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে আমরা যে ক্রুডওয়েল আমদানি করি যেটি চট্টগ্রামে পরিশোধিত করা হয়। সেখান থেকে উপজাত হিসেবে নেপতা (ন্যাপথলিন) হয় আর এলপিজি হয়।’

তিনি বলেন, ‘যে এলপিজি আমদানি করছি, সেটাকে ভ্যালু অ্যাড করে আমরা সেটি রফতানি করব। এটি তো আমাদের অর্থনীতির জন্য সহায়ক। আমাদের এক্সপোর্ট বাস্কেটে আরেকটি পণ্য যোগ হলো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এটিকে তারা (বিএনপি) প্রথম বলল, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করার তো প্রশ্নই আসে না। কারণ আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাসে প্রাচুর্য নেই। সুতরাং এ বিষয়গুলো বিএনপি নেতারা বুঝেও জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই কথাগুলো বলছেন।’

বঙ্গবন্ধুর পরিচালক ডাক্তার না কি রিজভী ডাক্তার

খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রিজভী সাহেবরা তো প্রতিনিয়তই বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য খুব খারাপ। বঙ্গবন্ধুর পরিচালক ডাক্তার, না রিজভী সাহেবরা ডাক্তার, এটা বোঝা মুশকিল।’

তিনি বলেন, ‘রিজভী সাহেবদের কথায় মনে হয়, উনারাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। ওনারা কিছুদিন পরপর বলেন যে, খালেদা জিয়ার অবস্থা খুব খারাপ। খালেদা জিয়ার কিছু সমস্যা আছে যেগুলো খুব পুরনো এবং সেগুলো বয়স বাড়ার কারণে হয়। যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো বাড়ে।’

‘সেই পুরনো সমস্যাগুলোই খালেদা জিয়ার আছে। সেজন্য তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের মতো জায়গায় রাখা হয়েছে। যেটি দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা বিদ্যাপীঠ এবং দেশের বড় বড় চিকিৎসকরা সেটির সঙ্গে সংযুক্ত। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা তারা সবসময় করে আসছে। সুতরাং রিজভী সাহেবের বক্তব্য তার ধারাবাহিকতা ছাড়া আর অন্য কিছু নয়।’

আরএমএম/এসআর/জেআইএম