আমরা লজ্জা পেয়েছি : মওদুদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী অনেকের স্মৃতিচারণ করেছেন। জাসদের একজন নেতা মারা গেছেন, তার জন্য কথা বলেছেন। কিন্তু ক্ষণিকের জন্য সাদেক হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেন নাই। কেন করেন নাই? শুধু কি এটাই কারণ যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সাদেক হোসেন খোকা প্রধানমন্ত্রীকে হারিয়েছিলেন? সেই কারণে কি তার কথাটা তার (প্রধানমন্ত্রী) মনে আসেনি? আমরাতো প্রধানমন্ত্রীকে একটা বিরাট মনের মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। তার তো এরকম হীনম্মন্যতা থাকার কথা নয়। তার উচিত ছিল সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে কিছু বক্তব্য দেয়া।’

‘আমরা লজ্জা পেয়েছি যে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এতজনের কথা বললেন কিন্তু সাদেক হোসেন খোকার কথা বললেন না। যাইহোক সাদেক হোসেন খোকা আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যতদিন বেঁচে থাকবে আমরা তাকে স্মরণ করব।’

অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শেষ মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এই স্মরণসভার আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম।

মওদুদ বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন সাহসী, সৎ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাংলাদেশকে ভালোবাসতেন, দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন। তার অবদান এ দেশের মানুষ কখনও ভুলবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তাকে যে সম্মান দেখানো উচিত ছিল, সে সম্মান আমরা দেখাতে পারিনি।

বর্তমান দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকেই মনে করেন, আমরা রাস্তায় নামতে পারছি না, আন্দোলন করতে পারছি না। সেইজন্য বুঝি সরকারের পতন হবে না। কিন্তু আমি নিরাশ নই, হতাশ নই। অতীতে আমরা যেভাবে সরকারের পতন করেছি সেইভাবে সবসময় সরকার পতন হয় না। আমি মনে করি, বর্তমান সরকার তাদের নিজেদের কারণে তারা তাদের পতন ডেকে নিয়ে আসবে। কারণ, দুর্নীতিতে যে শিকড়, সুড়ঙ্গ তারা তৈরি করেছে সেই সুড়ঙ্গ থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারবে না। এই ক্যাসিনো ও অস্ত্র মামলায় সম্রাট, শামীমসহ যাদের ধরেছেন, আপনারা (সরকার) মনে করছেন এদের বিচার করলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিক হবে না। এটা তো একটা আইওয়াশ মাত্র, এটা দেশের জনগণ জানে। এ সরকারের দুর্নীতির সুড়ঙ্গ এত বড় হয়েছে যে, তাদের পতন হতে বাধ্য।’

মওদুদ বলেন, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যত সম্পত্তি জবর দখল করা হয়েছে, আমরা যদি তার হিসাব নেই তাহলে দেখব এই সরকার সাম্প্রদায়িক, অসাম্প্রদায়িক নয়। এই সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর চরমভাবে অত্যাচার করেছে।

স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, কৃষক দলের সদস্য এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

কেএইচ/জেডএ/এমএস