সোনার বাংলা বিনির্মাণে গৌতম বুদ্ধের বাণী অনুসরণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২২ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে গৌতম বুদ্ধের শান্তির বাণী অনুসরণীয়। চলার পথে, শান্তির পথে তার বাণী শক্তি জোগায়।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দান ও জাতীয় বৌদ্ধ মহাসম্মেলন- ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন’র সভাপতি প্রকৌশলী দিব্যেন্দু বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ পৃথিবীতে মানবতার জন্য, মানুষের জন্য অবদান রেখে যে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, তাদের মধ্যে আমাকে বেশি টানে গৌতম বুদ্ধ। তার বাণী অনুসরণীয়। বিশেষ করে তিনি অশান্তির বিরুদ্ধে যে শান্তির বাণী প্রচার করেছেন তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে রক্তাক্ত বিদায়ের পর আমি যখন ছাত্রলীগের সভাপতি তখন বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে যেতাম, বক্তৃতা দিতাম। গৌতম বুদ্ধের একটা বাণী সব সময় বলতাম। ‘মানুষের প্রজ্ঞা চিরকালের, কলঙ্ক-কালিমা সাময়িক। কলঙ্ক-কালিমা বেশিদিন থাকবে না। চিরকালের প্রজ্ঞাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কলঙ্ক-কালিমা লেপন করে যারা বঙ্গবন্ধুর বিশাল অবদান মুছে দিতে চেয়েছিল, যারা কলঙ্ক, চরিত্রহনন করে আরেকবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, গৌতম বুদ্ধের সেই বাণীই সত্য হয়েছে যে, ধুলির আস্তরণ সাময়িক-কালের। কলঙ্ক-কালিমা লেপন বিজয়ী হয় না, মানুষের প্রজ্ঞাকে, বিশাল অবদানকে ঢেকে রাখা যায় না। আজ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু স্বমহিমায়, স্বকীয় ঔজ্জ্বল্যে অধিষ্ঠিত। আমি গৌতম বুদ্ধের এ বাণী থেকে শিক্ষা নিয়েছি। হতাশাগ্রস্ত আমার দলের নেতাকর্মীদেরও গৌতম বুদ্ধের বাণী থেকে শিক্ষা নিতে বলি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন। তার প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। এছাড়া তিনি দলেও দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাচিপের (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার বড়ুয়াও যোগ্যতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যেতে পেরেছেন। এমন আরও অনেকে রয়েছেন, সামনে আর হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি অভিভূত। এখানে যারা বসে আছেন তাদের অনেকে আমার কাছে গেছেন, আমি সানন্দে রাজি হয়েছি। আমি মিরপুরে গিয়েছি, রামুতে গিয়েছি। রামু বৌদ্ধ বিহারে সাম্প্রদায়িক হামলার পর সেখানে গিয়েছি। কিছুদিন আগে প্রয়াত, আপনাদের সত্যপ্রিয় গুরুর সঙ্গে রামুতে দেখা করেছি একাধিকবার। দেখা হলেই তিনি সব সময় বলতেন আমি তার বন্ধু। সত্যিই তিনি আমার বন্ধু ছিলেন। সত্যপ্রিয় খুবই বিনয়ী ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি সত্যপ্রিয় ছিলেন বলেই তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছিল। আজ তাকে আমি স্মরণ করছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সত্য ও সুন্দরের লক্ষ্যে আসুন সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিময় হিসেবে গড়তে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে যে শুদ্ধি অভিযানের ডাক দিয়েছেন, অপকর্মের বিরুদ্ধে, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, টেন্ডার, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, ভূমি দখলকারীর বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে, সকল প্রকার অপকর্ম-অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযানের সৎসাহস দেখিয়েছেন, নিজ ঘর থেকে অভিযান শুরু করেছেন, সেই শুদ্ধি অভিযানে বৌদ্ধ সম্প্রদায় সহযোগিতা ও সমর্থন দেবেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বৌদ্ধ বিহারের জন্য যথাসাধ্য সবকিছু করার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ।

জেইউ/এমএআর/এমএস