বাবু গাছতলা থেকে কবে চলে যাবেন : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪২ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯

বিএনপি ছেড়ে যাবেন এমন নেতাদের তালিকায় আরও বহুজন রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির কয়েকজন নেতার দলত্যাগের বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বিএনপি হচ্ছে একটি বটগাছ এই বটগাছের নিচে মানুষ আসবে বিশ্রাম নিয়ে চলে যাবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই বক্তব্যের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কয়েকজন সিনিয়র নেতা যে দল ত্যাগ করে চলে গেছেন, সেই প্রসঙ্গে তিনি এই কথা বলেছেন। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে গয়েশ্বর বাবু কখন বিএনপির বটগাছ থেকে চলে যাবেন। সেই প্রশ্ন অনেকে করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি থেকে যেভাবে তাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দল ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন, বিএনপি ছেড়ে যাচ্ছেন, এই ছেড়ে যাওয়ার লিস্টে আরও বহুজন আছে। সেগুলো ভবিষ্যতে বিএনপি দেখতে পাবে। এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে গয়েশ্বর বাবু নিজের হতাশা কাটাতে আত্মতুষ্টির জন্য এই কথা বললেও তাদের দলত্যাগ তারা ঠেকাতে পারবে না।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা (বিএনপি) নেতিবাচক রাজনীতি করে। রাজনীতি হচ্ছে ব্রত, রাজনীতি মানুষের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য। কিন্তু তাদের রাজনীতি গত ১১ বছর ধরে মানুষের কল্যাণে আবর্তিত হয়নি। তাদের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং খালেদা জিয়ার মামলা, তারেক জিয়ার মামলা ও খালেদা জিয়ার মুক্তি। এই বিষয়গুলো নিয়েই তাদের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে।’

‘তারা এই বিষয়গুলোতে ফুটিয়ে তোলার জন্য জঘন্য পথ অবলম্বন করেছে, জনগণের উপর আক্রমণ করা, বোমা হামলা চালানো, এজন্য তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। এটির কারণেই তাদের দলের নেতারা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এছাড়া বিদেশ থেকে যেভাবে দলকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাদের দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র বলে কোনো কিছু নেই। এখানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না। সিদ্ধান্ত আসে বিদেশ থেকে। তাদের দণ্ডপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসে। সমস্ত অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত। সেই কারণেই তারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে’ বলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গয়েশ্বর বাবু এই কথা বলে আত্মতুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করলেও এতে আত্মতুষ্টি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গতকাল আমাদের অনেকে প্রশ্ন করেছে, গয়েশ্বর বাবু বিএনপির গাছতলা থেকে কবে চলে যাবেন?’

বিএনপি ত্যাগ করে কেউ আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন কি না- এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেখুন বিএনপির বহু নেতাই দল ছেড়ে যাওয়ার জন্য বহুদিন ধরে চিন্তা-ভাবনা করছেন। আওয়ামী লীগে বিভিন্ন পর্যায়ে যে যোগাযোগ রাখছেন না তা নয়। আওয়ামী লীগ কিন্তু যাকে-তাকে দলে নেয়ার জন্য বসে রয়নি। আওয়ামী লীগ একটি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা দল। আওয়ামী লীগে যোগদান করতে চাইলেই সবাইকে নেয়া সম্ভবপর নয়। তাদের দল থেকে অনেকেই দল ত্যাগের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। মাত্র শুরু হল, ভবিষ্যতে আরও বিএনপি দেখতে পাবেন।’

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলার বিষয়ে- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গাম্বিয়া যে মামলাটি করেছে, ওআইসির (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) সিদ্ধান্তে মামলাটি করেছে। কিছুদিন আগে ওআইসির মিটিংয়ে হয়েছিল, সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত ছিল সেই সিদ্ধান্ত ক্রমে ওআইসির পক্ষ থেকে গাম্বিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে মামলা করেছে। এই মামলার সাথে ৫৬টি দেশের রেজুলেশনও সংযুক্ত আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতপক্ষে আন্তর্জাতিক চাপ মিয়ানমারের উপর আরও বাড়বে। আশা করি, তারা তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নেবে।’

গত রোববার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ নূর হোসেন মাদকাসক্ত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। তার দাবি, নূর হোসেন ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর ছিলেন। রাঙ্গার এই মন্তব্যকে সরকার কীভাবে দেখছে- জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নূর হোসেন সম্পর্কে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নূর হোসেন একটি মূর্ত প্রতীক হিসেবে আমাদের দেশে গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য অগ্রণযোগ্য।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তবে মসিউর রহমার রাঙ্গা যে ভুল বুঝতে পেরেছেন, এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি তার বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, তার এই বক্তব্য দেয়া সঠিক হয়নি। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও এই ধরনের অনভিপ্রেত বক্তব্য কেউ দেবেন না।’

আরএমএম/এসএইচএস/এমকেএইচ