সরকারের মধ্যে অস্থিরতা দেখছেন মওদুদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯
ফাইল ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দেশে কোনো রাজনীতি নেই, বিরোধী দল নেই, তারপরও সরকারের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনো রাজনীতিবিদকে আগে কথা বলতে শোনা যায়নি। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প কারও ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ বন্ধের কথাই প্রমাণ করে সরকার অস্থিরতার মধ্যে আছে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ‘বেগম জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি’- তে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিতে যত মুক্তিযোদ্ধা আছে আওয়ামী লীগ এত মুক্তিযোদ্ধা নেই বলেও মন্তব্য করেন মওদুদ। বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেরাই বলছেন, তাদের দল এখন অনুপ্রবেশকারী দিয়ে ভরে গেছে। অর্থাৎ তারা মুক্তিযোদ্ধা নয়, অনুপ্রবেশকারী। তাহলে এখন কি ধরে নিতে হবে আওয়ামী লীগ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে না বরং যে স্বাধীনতার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি, যুদ্ধ করেছি সেই স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণরূপে ভুলণ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন মাঠে নেই। আমাদের কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। তারপরও সরকারের মধ্যে আমরা এক রকম অস্বস্তি দেখতে পাচ্ছি। এর কারণটা কী? এর কারণ হলো, তাদের দুঃশাসন, অপশাসন, দুর্নীতি, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে যে, আজ তাদের এ অপকর্মের ভারেই তাদের পতন ঘটবে।

মওদুদ বলেন, আজ তারা স্বাধীনতার চেতনার নতুন সংজ্ঞা দিয়েছেন। সেই সংজ্ঞা হলো, স্বাধীনতার চেতনা মানেই হলো একদলীয় শাসন, স্বাধীনতার চেতনার মানে হলো ভোট চুরি করে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা। স্বাধীনতার চেতনা হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকতে পারবে না, আইনের শাসন থাকতে পারবে না এবং আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে পারবে না।

১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এসব ভিসির তো শিক্ষার্থীদের সম্মান করার কথা ছিল। তাদের তো আদর্শ পুরুষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা সম্মান রক্ষা করতে পারেন নাই তাই শিক্ষার্থীরা সম্মান করেননি। ভিসিরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে আর আমাদের সরকারপ্রধান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলছে যে, তারা দুর্নীতির প্রমাণ করতে না পারলে উপযুক্ত শাস্তি দেবেন। যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তিনি যদি স্বপদে বহাল থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করে দেয়া হবে- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, এ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ কি কোনো ব্যক্তিগত অর্থ? এ প্রকল্প তো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মঙ্গলের জন্য। এ প্রকল্পের অর্থ বন্ধ করে দেয়ার যে একটা মানসিকতা তিনি প্রকাশ করেছেন, এতেই প্রমাণ সরকারের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছে।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির একাংশের মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

কেএইচ/এমএআর/এমএস