দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনছেন মওদুদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯
ফাইল ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমার চোখের সামনে এখনো চুয়াত্তর সাল ভাসছে। চুয়াত্তর সালে বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল, আজকে আমার কাছে মনে হয় সেই একই পদধ্বনি আমি শুনতে পাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মওদুদ বলেন, ২০১৯ সালটা বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক একটি বছর। জাতির জন্যও দুর্ভাগ্যজনক বছর। একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই চলেছে। নুসরাত হত্যা থেকে শুরু ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি, সেখান থেকে শুরু করে যুবলীগের ক্যাসিনো, তারপরে পেঁয়াজ ও লবণের সমস্যা। যে সরকার সামান্য পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে না, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার আর থাকে না। আর এখন এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। চালের দাম একদিনে পাঁচ টাকা বেড়েছে। এসব কারণে আমার চোখের সামনে এখনো ৭৪ সালে ভাসছে। ৭৪ সালে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল, আজকে আমার কাছে মনে হয়, সেই একই পদধ্বনি আমি দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, সরকারকে হুঁশিয়ারি করে দিতে চাই। এই কথা বলতে চাই, এখনই সময়- আপনারা পদত্যাগ করুন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যাতে করে এদেশের মানুষ নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তারা তাদের পছন্দ মতো প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এটাই এখন একমাত্র সময়ের দাবি। আর এটা যদি আপনারা নিজে থেকে না দেন তাহলে দেশের মানুষ আদায় করে নেবে।

মওদুদ বলেন, বিরোধী দলকে দমন করতে নিয়ে সরকার মানুষের সুখ-শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে। এজন্য মানুষের মধ্যে শান্তি নেই। একটার পর একটা সংকট দেখা দিচ্ছে। গত নির্বাচনে তারা মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়নি বলেই আজকে দেশে এই নৈরাজ্যকর অবস্থা। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামিনে যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি না হয় তাহলে একমাত্র বিকল্প হচ্ছে রাজপথ। দেশের মানুষ প্রস্তুত আছে। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে যে, আমরা কী ধরনের কর্মসূচি দেই। সেই কর্মসূচিতে তারা অংশগ্রহণ করে খালেদা জিয়াকে শুধু নয় গণতন্ত্রও ফিরে আনবে।

তারেক রহমানের জন্মদিন প্রসঙ্গে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, তিনি আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা পালন করে এ দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এই আশা এবং প্রত্যাশা আমাদের সবার। আর তার মধ্যে যেসব গুণ দেখতে পাই, এর মধ্যে সহনশীলতা।

দোয়া মাহফিলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন ওলামা দলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম।

কেএইচ/এমএসএইচ/এমকেএইচ