অমিত শাহের বক্তব্যে ‘বিক্ষুব্ধ’ বিএনপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এমন বক্তব্যে ‘বিক্ষুব্ধ’ দলটি।

মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা জানান।

তিনি বলেন, ভারতের নাগরিকত্ব আইন লোকসভা ও আজকে বোধহয় রাজ্যসভায় পাস হলো। ভারতের আইন নিয়ে আমাদের বেশি কথা বলার কথা নয়। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু তাদের দায়িত্বশীল নেতার বক্তব্য যদি আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সমস্যা তৈরি করে তাহলে নিঃসন্দেহে সেই সম্পর্কে কথা বলাটা আমাদের দায়িত্ব। আজকে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অমিত শাহের মন্তব্যে আমরা শুধু উদ্বিগ্নই নই, অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ, আমরা ….। আমরা কখনও আশা করতে পারিনি, তাদের দেশের এ রকম দায়িত্বশীল নেতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে দায়িত্বহীন মন্তব্য করবেন, সেটা কোনো মতেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। সে কারণে আমরা অমিত শাহের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ড. আবুল বারকাত সাহেবের যে রিপোর্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেটা বেরিয়েছে গত ১০ বছরে। তাতে উনি পরিষ্কার করে রিপোর্টে বলেছেন, শতকরা ৭০ ভাগ যদি কেউ দখল করে থাকে সেটা আওয়ামী লীগের হাতে আছে। ইতিহাস তাই বলে, একাত্তর সালের পর থেকে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যত অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন হয়েছে- তা আওয়ামী লীগের দ্বারাই হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে উনার বক্তব্য কাকতালীয় হবে কি না, জানি না। অমিত শাহের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ওবায়দুল কাদের সাহেবও হঠাৎ করেই আজকে বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে আখ্যা দিয়েছেন। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই কোনো সাম্প্রদায়িক দল ছিল না। বিএনপি সরকারের আমলগুলোতে সবসময় একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করেছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, সেই অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছিল তখন বাংলাদেশে বিএনপি সরকার ছিল, বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ছিল তখন কিন্তু কোথাও কোনো রকমের সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটতে দেয়া হয়নি। আমরা যখনই সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, আমরা এটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি যাতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়।

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, ভারত আমাদের বন্ধু দেশ। আমরা সবসময় আশা করি, ভারতের নেতৃত্ব যে দলেরই আসুক, সরকার যে দলেরই আসুক তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো থাকবে। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে। কিন্তু এমন কোনো কাজ, এমন কোনো কথা বা উক্তি করাটা ঠিক হবে না যেটা এই দু’দেশের সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করবে।

বৈঠকে স্কাইপে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

কেএইচ/জেএইচ/এমকেএইচ