খালেদার ফিজিওথেরাপিস্ট পরিবর্তনের অভিযোগ ডা. শাহাদাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেছেন, কারাগারে খালেদা জিয়াকে ফিজিওথেরাপি দিতেন সাবরিনা ইয়াসমিন নামের একজন প্রথম শ্রেণির চিকিৎসক। তিনি নিজে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে খালেদার জন্য উন্নত একটি ফিজিওথেরাপি মেশিন পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের তরফে সেটা জানার পর ডা. সাবরিনা ইয়াসমিনকে চিকিৎসা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং ওই জায়গায় তৃতীয় শ্রেণির একজন চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে।

তার দাবি, খালেদা জিয়াকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আধুনিক ফিজিওথেরাপি মেশিন ব্যবহার করতে না দেয়া ও চিকিৎসক বদলে ফেলা সরকারের নীলনকশার অংশ।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) নগরের লাভ লেনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ আনেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চরম অসুস্থতায় ভুগছেন জানিয়ে ড্যাব চট্টগ্রাম শাখার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। যথাযথ চিকিৎসা না দিলে তার এই অবস্থা স্থায়ী রূপ নিতে পারে। তাদের ভাষ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ সরকারের অশুভ ইশারায় খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন ভন্ডুল করতে সত্য গোপন করছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে সরকার খালেদা জিয়ার জামিন প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেগম জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিএসএমএমইউ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক। বিএসএমএমই পরিচালক বলেছেন, খালেদা জিয়ার অসহযোগিতার কারণেই তার সঙ্গে চিকিৎসকরা দেখা করতে পারছেন না, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ড্যাব চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ফয়েজুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ইদানীং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার অপপ্রয়াসে তার স্বাস্থ্য সম্পকৃত অসত্য সংবাদ পরিবেশ করা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার হাতে এবং পায়ে ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে। তাতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। জয়েন্টগুলো শক্ত এবং বাঁকা হতে চলেছে, যা স্থায়ী রূপ ধারণ করতে পারে। খালেদা জিয়া বর্তমানে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, ওঠাবসা, এমনকি নিজ হাতে খাবার পর্যন্ত খেতে পারছেন না।’

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া চরম অসুস্থতায় ভুগছেন। বাস্তবিক অর্থে উনি ধীরে ধীরে পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এই সময় যথাযথ চিকিৎসা না দিলে তার এই অবস্থা স্থায়ী রূপ নিতে পারে। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ সরকারের অশুভ ইশরায় জাতিকে বিভ্রান্ত করতে এবং খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন ভন্ডুল করতে সত্য গোপন করছেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে নিজ পায়ে হেঁটে জেলখানায় প্রবেশ করেন। নিজে হেঁটে দোতলায় তার নির্ধারিত রুমে যান, এমনকি জেলখানা থেকে এর আগের বার যখন বিএসএমএমইউতে আসেন, তখন গাড়ি থেকে নেমে নিজে লিফট পর্যন্ত হেঁটে যান। সময়ের পরিক্রমায় তিনি কীভাবে আজকের অবস্থায় উপনীত হলেন, সেটা প্রশ্ন রাখতে চাই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সঠিক চিকিৎসার অভাবে তিনি ধীরে ধীরে এই অবস্থায় উপনীত হয়েছেন। তিনি সুচিকিৎসা পেলে এই অবস্থা হতো না।

ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, ড্যাব চমেক শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, মহানগর সভাপতি ডা. আব্বাস উদ্দিন, উপদেষ্টা আবুল কালাম, নগর বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. এস এম সরোয়ার আলম, ড্যাব নগর সহ-সভাপতি ডা. কাজী মাহবুব আলম, ড্যাব নেতা ডা. ইফতেখার আদনান, ডা. নুরুল করিম চৌধুরী, ডা. খোরশেদ আলম, ডা. মিনহাজুল আলম, ডা. মইন উদ্দিন, ডা. ওমর ফারুক পারভেজ, ডা. জাহেদুল আলম, ডা. মীর কাশেম মজুমদার, ডা. ওয়াসিফ কামাল নাদিম, ডা. সাইফুল ইসলাম, ডা. সাদ্দাম, ডা. জাহেদ, মোহাম্মদুল হক জনি, সাইফুল ইসলাম আজিজ, নয়ন প্রমুখ।

আবু আজাদ/এসআর/এমকেএইচ