শেখ হাসিনার বক্তব্যের কড়া সমালোচনায় মির্জা ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৭ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতকাল (শনিবার) দেয়া এক বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, জিয়াউর রহমান সাহেবকে চিফ অব আর্মি স্টাফ নিয়োগ করে সুবিধা করে দিয়েছেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। খুব খারাপ কথা বলেছেন, সেটা আমি উচ্চারণ করতে চাই না। আপনি (শেখ হাসিনা) কোথায় ছিলেন তখন? আপনি কি দেখেছেন সে সময়ে কি অবস্থা ছিল? আপনি কি জানেন সে সময়ে মানুষ কি অবস্থার মধ্যে পড়েছিল?’

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের দলের নেতা প্রয়াত শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মানুষ ছিলেন খোন্দকার মোশতাক। তিনিই এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ষড়যন্ত্র করে সেদিন শেখ মুজিবকে সরিয়ে সরকার দাবি করেছিলেন, তিনিই সরকার গঠন করেছিলেন। আমরা সেই কথা ভুলে যাইনি। আপনারা বিভিন্ন আইন করে, মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে নির্যাতন-নিপীড়ন করে আমাদের মুখকে বন্ধ করতে দিতে চান। এ মুখ তো বন্ধ হবার নয়। সত্য কথা সবসময় উচ্চারিত হবে এবং সত্যের জয় হবে।’

দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘চতুর্দিকে রাষ্ট্রের সমস্ত যন্ত্র দখল করে নিয়ে গণতান্ত্রিক সমস্ত ব্যবস্থাকে চুরমার করে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করার জন্য সব ব্যবস্থা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। বাকি নেই তো কিছু। আজকে চারদিকে তাকিয়ে দেখুন, পার্লামেন্ট একটা রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্টে পরিণত হয়েছে। সেখানে বিরোধী দল কাকে বানিয়েছে? যারা ৯ বছর স্বৈরাচার হিসেবে দেশ শাসন করেছে, যাদের কারণে এ দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, যাদের হাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে। এদেশে আর কখনো সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে কি না আমি জানি না। আমি জানি যে, এখন ৯০ ভাগের বেশি মানুষ ভোট দিতে যায় না। কেনো? ভোট ব্যবস্থার ওপরই তাদের আস্থা চলে গেছে। তারা জানে যে, ভোট দিতে গিয়ে দেখবে- ভোট নেই অথবা দেয়া হয়েছে।’

বিচার বিভাগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মানুষ বিচার বিভাগকে শেষ আশ্রয়স্থল মনে করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের দেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দুই বারের বিরোধী দলীয় নেতা তাকে একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বেআইনিভাবে তার প্রাপ্য যে জামিন, সেই জামিন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘অথচ সরকার প্রধান পরিষ্কার করে মেডিকেল বোর্ডকে বলে দিলেন- তিনি তো রাজার হালে আছেন, কী অসুবিধা। দ্যাট ইজ এনাফ। একটা ম্যাসেজ দেয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। সে ম্যাসেজ পৌঁছে গেল সবখানে। উনিতো ভালোই আছেন, অসুবিধা নেই। ডাক্তার সাহেবদের ওপর প্রেসার ক্রিয়েট করা হলো যে, তোমরা যে লিখেছ- এ শব্দগুলো বদলাও। তার আগে ডাক্তার সাহেবরা পরিষ্কার করে বলেছিলেন- সি ইজ এ ক্রিপল স্টেইজ। অর্থাৎ পঙ্গুত্ব অবস্থায় তিনি (খালেদা জিয়া) আছেন। সব কিছুকে উপেক্ষা করে বলে দেয়া হলো, জামিন দেয়া যাবে না।’

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শিরিন ‍সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল।

কেএইচ/এফআর/এমএস