খালেদার ছবি দিয়ে পোস্টার কীভাবে, প্রশ্ন খালিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার ছবি দিয়ে কীভাবে পোস্টার করেছেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে সেই প্রশ্ন রেখেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার কচিকাঁচার মেলার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে যখন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় লেভেল প্লেয়িং নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলতে চাই, মাহবুব সাহেব, আপনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শপথ নিয়েছেন, লেভেল প্লেয়িং বলতে আমরা কী বুঝি? বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিরা নির্বাচন করবে আর সেই নির্বাচনে যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, সেই নির্বাচন কখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না।

তিনি আরও বলে, লেভেল প্লেয়িং তখনই হবে যখন একজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আরেকজন নির্বাচন করবেন।

অপরাধীর ছবিসংবলিত পোস্টার দিয়ে নির্বাচন করার অধিবার নেই দাবি করে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু ঘাতকরা সেই সুযোগ বঙ্গবন্ধুকে দেয়নি। তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের। আমাদের মনের মধ্যে অনেক কষ্ট আছে, ব্যথা আছে। তারপরও আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। তার মানে এই নয়, এ ধরনের যুদ্ধাপরাধী আর স্বাধীনতাবিরোধী যারা আছে তাদের মেনে নেব। বাংলার মানুষ কখনও এই স্বাধীনতাবিরোধীদের মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ারা অনেক চেষ্টা করেছেন এই যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি আজকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার ছবি দিয়ে বিএনপি প্রার্থীরা পোস্টার করছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ও অপরাধীর ছবি পোস্টারে দিয়ে নির্বাচন করার অধিকার নেই। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, একজন অপরাধীর ছবি সংবলিত পোস্টার কীভাবে করা হয়?

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে জানিয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুখ তখনই অনুভব করবো, যখন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ হবে; আমরা স্বাধীনতার সুখ তখনই অনুভব করবো যখন দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পদার্পণ করবে। এই স্বাধীনতার সুখ অনুভব করার সবচেয়ে বড় অন্তরায় হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। তাদের শুধু দমন করলে হবে না, তাদের শুধু নিয়ন্ত্রণ করলে হবে না, তাদের চিরতরে নির্মূল করার মধ্য দিয়ে আমাদের এই নিরন্তর সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের সভাপতি সালাউদ্দিন বাদলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গীতিকার সাফাত খৈয়াম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান সুলতান।

এইউএ/এমএসএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]