আন্দোলনকারীদের আদালতের আদেশ মেনে নেয়ার আহ্বান কাদেরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩২ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে আন্দোলনরতদের আদালতের আদেশ মেনে আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এই আহ্বান জানান।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণি সিটি করপোরেশনে সাধারণ নির্বাচনের দিন সরস্বতী পূজা। নির্বাচনের তারিখ পেছানোর জন্য আদালতে একটি রিটও করা হয়েছিল। আদালত সেটি খারিজ করে দিয়েছেন। এখন তারিখ পেছানোর জন্য আন্দোলন হচ্ছে, আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখছেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হাইকোর্ট তো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বাইরে কিছু নিশ্চয়ই ভাববে না। হাইকোর্টে যারা আদেশ দিয়েছেন তারা তো ভেবেচিন্তেই দিয়েছেন। যেখানে বিষয়টি কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে, কোর্টের আদেশ যেটা সেটা তো মেনে চলা উচিত। আমি আন্দোলনকারীদের আহ্বান করব, তারা আন্দোলন থেকে বিরত থাকবেন। আদালতের আদেশ মেনে নিয়ে তারা আন্দোলন থেকে বিরত থাকবেন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনটা হোক, সবার এটা প্রত্যাশা, প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার দুই সিটিতে একটা উৎসবমুখর পরিবেশও বিরাজ করছে।’

ভোটের তারিখ নিয়ে আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতাদেরও দেখা যাচ্ছে- এ বিষয়ে কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের দৃষ্টিকোণ থেকে তারা যদি থেকে থাকে সেটা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আছে। এখানে পার্টি কোনো বিষয় নয়। পার্টিগতভাবে তো কেউ এটাতে অংশগ্রহণ করেনি। ছাত্রলীগের যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের আছে, তাদের অনেকেই যেতে পারে। সেটা তো অসম্ভব কিছু না।’

নির্বাচন কমিশন যখন শিডিউল ঘোষণা করেছে তখন পূজার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত ছিল কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা নিশ্চয়ই তাদের বিবেচনা করা উচিত ছিল। আর তাদের ঘোষণার ভেতর কোনো ফাঁক-ফোকর আছে কি না, সেটা দেখার বিষয় ছিল আদালতের। আদালত তো এখানে একটা নির্দেশ অলরেডি দিয়েছে।’

ওইদিন তো একটা ধর্মীয় বড় অনুষ্ঠান- তখন ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি তো আদালতের আদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। এটা নিয়ে প্রশ্ন করা তো উচিত না। আমরা হয়তো নির্বাচন কমিশনকে পুনর্বিবেচনার জন্য বলতে পারতাম, কিন্তু বিষয়টি যখন আদালতে গড়িয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত সেটা নির্বাচন কমিশন মেনে চলবে এবং নির্বাচন হবে।’

রিট খারিজ করার মানেই হলো নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে ওটাই ঠিক আছে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচন কমিশন সরকারি ক্যালেন্ডারকে রেফার করছে, তবে কী সরকারি ক্যালেন্ডারে ভুল রয়েছে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভুল ছিল এটা তো আমি এখন বলতে পারি না। ভুল থাকলে আদালতের তো দেখা উচিত, যে এখানে ভুল আছে।’

‘সবকিছু মিলিয়েই যে আদেশ দেয়া হয়েছে ৩০ তারিখে নির্বাচন হবে। ধর্মীয়ভাবে যারা সংক্ষুব্ধ হয়েছে, আমি তাদের অনুরোধ করব, আদালতের আদেশ মেনে অনেক প্রত্যাশিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারাও অংশগ্রহণ করবেন। তারাও ভোট উৎসবে যোগ দেবেন, এটাই আমি আশা করি।’

অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বললেও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন নির্বাচন হবে। এর আগেও এমন হয়েছে। তবে কী প্রশাসনের মধ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তি এখনও সোচ্ছার? জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি আদালতকে সাম্প্রদায়িক বলবেন কি না! যেখানে আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে। তাহলে সাম্প্রদায়িক কীভাবে বলতে পারেন।’

আরএমএম/জেডএ/এমএস