১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দ্রুত কার্যকর চায় সিপিবি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মহাসমাবেশে বোমা হামলা মামলার রায়ের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দলের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন, 'এ হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশে প্রথম বোমা হামলা। এই জঘন্যতম বোমা হামলার বিচারের জন্য নানা বাধা-বিপত্তি পার করে দেশবাসীকে সুদীর্ঘ ১৯ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে বিচার হওয়াটা সন্তোষের বিষয়। বিচারের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।'

সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

বিবৃতিতে সিপিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, 'সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলার যদি দ্রুত বিচার হতো, তাহলে পরবর্তী হামলাগুলো নাও ঘটতে পারত। আলোচিত এ বোমা হামলার বিচারের জন্য শুধু দীর্ঘ সময় ক্ষেপণই করা হয়নি, উপরন্তু নানা অন্তর্ঘাতমূলক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। শুধু দায়িত্বহীনতা ও অবহেলাই নয়, সরকারের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। জনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্য নানা কল্পকাহিনী সাজানো হয়েছে।'

তারা বলেন, 'বোমা হামলাকে সিপিবির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে চালিয়ে দেয়া, পার্টির আহত কমরেডকে বোমা বহনকারী সাজানোর অপচেষ্টাসহ সরকারের পক্ষ থেকে বিচারের ক্ষেত্রে নানাভাবে বাধা-বিঘ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল। এক সময় চূড়ান্ত প্রতিবেদনের নামে মামলা শেষ করে দেয়ারও চেষ্টা হয়েছিল। বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার এসব প্রচেষ্টারও বিচার হওয়া প্রয়োজন।'

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, 'সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলার বিচার হয়েছে আইনগতভাবে। হরকাতুল জিহাদের কিলিং স্কোয়াড চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এই হামলার পেছনে বিভিন্ন শক্তির যোগসাজশ ছিল। শুধু আইনগতভাবে নয়, বোমা হামলার পেছনের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক শক্তির উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি কর্তব্য। এ জন্য উচ্চ পর্যায়ের ট্রুথ কমিশন গঠন করতে হবে।'

এ হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। সিপিবি সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতা করছে। এসব পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তার ব্যবস্থা করতে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশ চলাকালে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত ও অনেকে আহত হন। নিহতরা হলেন- খুলনার বটিয়াঘাটার হিমাংশু মণ্ডল, খুলনার রূপসা উপজেলার আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরার আবুল হাসেম, মাদারীপুরের মুক্তার হোসেন ও খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস।

এ ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা করেন। এর দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন। তবে দীর্ঘ ১৯ বছর পর এ হামলা মামলার রায়ে ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

এফএইচএস/এফআর/এমএস