৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্রতিবাদ সভা করবে ঐক্যফ্রন্ট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৪ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বেগম খালেদা জিয়ার দুই বছর কারাবাসের প্রতিবাদে ঢাকায় সমাবেশ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার দুপুরে ড.কামাল হোসেনের মতিঝিল চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন রশীদ বলেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুই বছর কারাবাসের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ঐক্যফ্রন্ট। বেলা ১১টা থেকে শুরু হবে এ সমাবেশ।

তিনি আরও বলেন, সদ্যসমাপ্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর যুবসমাজ ও জনগণ অনাস্থা প্রকাশ করেছে। নির্বাচিত মেয়ররা মাত্র ৫-৭ শতাংশ মানুষের রায় পেয়েছে। বাকি ফলাফল ইভিএমের জাল ভোট।

অ্যাডভোকেট মহসীন লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে গণতন্ত্র আইনের শাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সরকার চায় ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না যাক। সরকার ভোটারদের ভয় পায়। তাই সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, সরকার দায়িত্বহীনভাবে সংবিধান পরিপন্থী কাজ করছে। নির্বাচন পদ্ধতিকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। যার ফলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা এ কথাগুলো জনগণকে বলতে থাকবো, জানাতে থাকবো। মানুষ একদিন দাঁড়িয়ে বলবে তারা যে কাজগুলো করছে সেটা ঠিক নয়। মানুষ একদম অসহ্য হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারকে মানুষ কখনোই গ্রহণ করেনি। এখনও করবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, ঢাকা উত্তর কিংবা পুরান ঢাকা যেখানেই বলেন, সবখানে মানুষ আমাদের সঙ্গে ছিল। আমরা যখন জনগণের কাছে গিয়েছি তখন হাজার হাজার মানুষ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। আমাদের দু’জন মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে জনগণ একাত্মতা পোষণ করেছেন। জনগণ আমাদের সঙ্গে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। মানুষের জনস্রোতে প্রমাণ হয়েছে আসলে জনগণ কাকে চায়।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ধৈর্য সহকারে রাজনৈতিক দলগুলোকে দৃঢ়তার সঙ্গে আন্দোলনে নামতে হবে। সময় বলে দেবে কখন কি করতে হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাই করবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এখন থেকে আমরা রাস্তায়, পথে-ঘাটে মিটিং-মিছিলসহ সব ধরনের কর্মসূচি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মানুষ আন্দোলন নিয়ে যে আশার কথা বলছে সেটার প্রতিফলন ঘটবে।

ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তাক আহমদ, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়কারী শহিদুল্লাহ কায়সার, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

কেএইচ/এমএফ/এমকেএইচ