চসিক নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত যুবদলে বিদ্রোহের ডঙ্কা

আবু আজাদ
আবু আজাদ আবু আজাদ , নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০
মনোনয়ন না পেয়ে পদত্যাগ করেছেন নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশাহ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কেবল আওয়ামী লীগ নয়, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকেও ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হতে পারে। এবার নগরের ৪১ ওয়ার্ডের কোনোটিতেই নগর যুবদলের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। সেই ক্ষোভে ইতোমধ্যেই মনোনয়নবঞ্চিত যুবদলে বাজছে বিদ্রোহের ডঙ্কা।

সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বলছেন, এবারে যুবদলের কমিটি কোনো বিএনপি নেতার নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে না। মূলত, এই কারণে যুবদলকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন নগর বিএনপির নেতারা।

এর মধ্যে সোমবার বিকেলে চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে সমর্থন না পাওয়ায় ৩০০ নেতাকর্মী নিয়ে পদত্যাগ করেছেন নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এমদাদুল হক বাদশাহ। এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে অন্তত ১২টি ওয়ার্ডে নগর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে চসিক নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেন কেন্দ্রীয় ও নগর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গড়া মনোনয়ন বোর্ড।

ঘোষিত তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন নগর বিএনপির উপদেষ্টা, সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক পদবিধারী ১১ জন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদবিধারী ১২ জন, সাধারণ সম্পাদক পদবিধারী ৫ জন, সহ-সভাপতি পদবিধারী দুই জন ও আহ্বায়ক পদবিধারী তিনজন। এর মধ্যে একজন নগর বিএনপির সদস্য, একজন ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও একজন সাবেক ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতিও রয়েছেন। বাকিরা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা বলে জানা গেছে।

jubodol-2.jpg

গত বুধবার কাউন্সিলর পদে লড়তে ১৮ যুবদল নেতা মনোনয়ন সংগ্রহ করেন

যুবদল নেতারা বলছেন, মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগের রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতার হস্তক্ষেপে যুবদল নেতাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। মূলত যুবদলে পকেট কমিটি তৈরি করতে না পেরে নগর বিএনপির কিছু নেতা দলটির ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই এ কাজ করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা বিএনপি কার্যালয় ঘেরাও এর মত কর্মসূচি দিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি এম এ গফুর বাবুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘নগর বিএনপিতে যুবদল বিদ্বেষী একটি মহল আছে, তারাই এ কাজ করেছে। আমি গত ২৪ বছর ধরে রামপুরা ওয়ার্ডে দলের হয়ে কাজ করছি। অথচ এখানে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন এমন একজন যিনি যুবলীগ থেকে বিএনপিতে এসেছেন। শহীদ মোহাম্মদ চৌধুরী ২০০১ সালে যুবলীগ থেকে বিএনপিতে আসেন, গত ৭ বছর ধরে দলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। অথচ মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগের রাতে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসায় বসে তাকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, এ ক্ষেত্রে বড় লেনদেন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরো সিটিতে আমরা ১৮ জন যুবদল নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এখানেই সবাই যোগ্য ছিল। কিন্তু যেখানে ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছে, সেখানে আমাদের নগর কমিটির কোনো নেতাও মনোনয়ন পাননি। এর প্রতিবাদে আমরা কর্মসূচি দেব। প্রয়োজনে নগর বিএনপির কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।’

নগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিএনপি কাউন্সিলর পদে যাদের মনোনয়ন দেবে, দলের স্বার্থেই আমরা তা মেনেও নেব। কিন্তু অন্তত আমাদের সঙ্গে বসা দরকার ছিল। আমরা জানতে পারতাম কে কোন যোগ্যতায় মনোনয়ন পাচ্ছে। আমরাইবা কেন বাদ গেলাম। কিন্তু বিএনপি নেতারা আমাদের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনাই করেনি। তারা বলছেন সামাজিক যোগ্যতার কারণে কোনো কোনো বিএনপি নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, তাহলে আমরা কি সমাজে ফেলনা?’

jagonews24

কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পেলেন যারা

যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এমদাদুল হক বাদশাহ বলেন, ‘আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে পশ্চিম বাকলিয়ায় কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় একেএম আরিফুল ইসলামকে। দলে তার কোনো অবদান নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমি রাজনীতি করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ৩৯টা মামলা দেয়া হয়েছে। কয়েকবার জেল খেটেছি। দুর্দিনে দলের জন্য এতকিছু করার পরও আমি কাউন্সিলর পদে সমর্থন পাইনি। তাই কোতোয়ালি, বাকলিয়া, চকবাজার থানার ছাত্রদল, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের ৩০০ নেতাকর্মী নিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করছি।’

যুবদল কারো পকেট কমিটি নয় দাবি করে নগর যুবদলের সহ-প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান লেন, ‘চট্টগ্রামে যুবদল, যুবদলের মতো হয়ে কাজ করেছে। সব আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। বিএনপির অন্তত যুবদল নেতাদের সেভাবে মুল্যায়ন করা প্রয়োজন ছিল। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল মহানগর বিএনপির প্রতিপক্ষ নয় বরং যুবদল বিএনপির প্রধান শক্তি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়াই করার ক্ষমতা যুবদলের নেতারা রাখে।’

নগর যুবদল সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আমরা পদ পদবির জন্য রাজনীতি করি না। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। সে জন্যই নির্বাচনে যাচ্ছি। আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর বলেন, ‘সবাইকে তো মনোনয়ন দেয়া যাবে না। একজন একজনকে সুযোগ করে দিতে হবে।’

কাউন্সিলর পদ পেতে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তেমন কিছু নেই।’ এর পরপরই তিনি ব্যস্ত আছেন বলে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম জাগো নিউজকে বলেন, ‘মনোনয়নের জন্য গঠিত বোর্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের চূড়ান্ত করেছেন। এখানে যাচাই-বাছাই করেই তাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে কি লিখল সেটা তাদের বিষয়। দল যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই নির্বাচনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।’

জেএইচ/এমএস