জামায়াত আমিরের বক্তব্যে বিস্মিত এবি পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ২৮ জুন ২০২০

 

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সম্পর্কে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি ভিডিও ক্লিপের বক্তব্য প্রচার হয়েছে।

সেখানে কর্মীদের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যের একাংশে বলেন, ‘এবি পার্টির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক পথ একেবারে আলাদা। ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে এবি পার্টি পরিচালিত হবে, তাই তাদের জন্য দোয়া করুন আল্লাহ যেন তাদেরকে দ্বীনের পথে আবার পরিপূর্ণভাবে ফিরিয়ে আনেন।’

জামায়াতের আমিরের ওই বক্তব্যে বিস্মিত হয়েছে এবি পার্টি। আজ রোববার (২৮ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করা এবি পার্টি।

রোববার (২৮ জুন) বিকেলে দলের পক্ষে সহকারী সদস্য সচিব এবিএম খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বলা হয়, গত মে মাসের ২ তারিখে এবি পার্টি গঠনকালীন তারা তাদের দলীয় মেনিফেস্টো ঘোষণার সময় বলেছেন- এবি পার্টির নীতি ও কর্মকৌশল হবে তিনটা জিনিসের ওপর ভিত্তি করে। তা হলো- সাম্য, সামাজিক সুবিচার ও মানবাধিকার। এটার ওপরে তারা কাজ করবেন। তারা তাদের সেশনে পরিষ্কার করে বলেছে যে, তাদের কর্মসূচিতে তাদের এজেন্ডায় ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধের এই চাপ্টার থাকবে না। এটাকে বাদ দিয়েই হবে তাদের সবকিছু।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে প্রদত্ত তথ্য ভুল, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। তাই আমরা এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

তিনি একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতা এবং দায়িত্বশীল পদে আসীন বিধায় আমরা তার জ্ঞাতার্থে ও জাতির সামনে এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য তুলে ধরছি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এবি পার্টি গত ২ মে যে ৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার প্রথম দফা হলো ‘জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা’। যেখানে বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যকার বিভেদ ও বিভাজন সৃষ্টিকারী সকল মত ও পথ পরিহার করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।’

আমাদের কর্মসূচির একটি দফাকে তিনি সম্ভবত ভুলবশত পুরো দলের মূলনীতি ও কর্মকৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া এই তিন মূলনীতি মূলত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুত মূলনীতি। যেখানে ‘মানবিক মর্যাদা’র বিষয়টিকে তিনি অসাবধানতাবশত ‘মানবাধিকার’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন ‘এবি পার্টির কর্মসূচিতে ও এজেন্ডায় ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধের এই চাপ্টার থাকবে না। এটাকে বাদ দিয়েই হবে তাদের সবকিছু ‘

তার এই তথ্য ও বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য এবং কল্পনা প্রসূত। এ ধরনের কোনো কথা বা ঘোষণা আমাদের ২ তারিখের ঘোষিত মেনিফেস্টো, কর্মসূচি বা এজেন্ডায় উল্লেখ নেই। তিনি কিসের ভিত্তিতে এই ধরনের কল্পিত তথ্য উপস্থাপন করলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা চ্যালেঞ্জ করছি তিনি যেন তার বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করে নৈতিকতার পরিচয় দেন।

এক্ষেত্রেও আমরা সবার জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই যে, এবি পার্টির তৃতীয় দফা কর্মসূচি হলো ‘প্রেরণা সৃষ্টি’ যাতে বলা হয়েছে- ‘দেশপ্রেম, নৈতিক দৃঢ়তা, সুশাসন, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মতৎপরতা পরিচালনা।’

এবি পার্টির প্রথম ও তৃতীয় দফা কর্মসুচি যে কোনো সাধারণ মানুষ পড়লেই বুঝতে পারবেন যে, এখানে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা পত্রে প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধকে কতটুকু গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অথচ জামায়াত আমির শফিকুর রহমান অকপটে বললেন আমাদের কর্মসূচিতে ও এজেন্ডায় ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধের চাপ্টার থাকবে না। এটাকে বাদ দিয়েই হবে আমাদের সবকিছু ‘

তার মতো একজন দলীয় প্রধানের এহেন ভিত্তিহীন বক্তব্যে আমরা বিস্মিত ও হতবাক।

এবি পার্টি গঠনের শুরু থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক শ্রেণীর উগ্র জামায়াত সমর্থক এবি পার্টিকে ধর্মহীন, সেক্যুলার, আদর্শহীন হিসেবে উল্লেখ করে নানা অপপ্রচার চালাতে থাকে। জামায়াত দলীয়ভাবে কখনোই তাদের এই উগ্র কর্মীদের দায়িত্ব স্বীকার করেনি। আজ দলের আমীরের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে এই উস্কানিমূলক অপপ্রচারের পেছনে দলীয় হাই কমান্ডের মনোভাবই মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে যা খুবই দুঃখজনক।

তবে জামায়াতের আমীরকে আমরা ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের সঙ্গে আমাদের আদর্শিক পথ একেবারে আলাদা।

আমরা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই এবি পার্টির লক্ষ্য হলো-‘ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে উন্নীত করা।’

এবি পার্টি কোনো রাজনৈতিক দলকে তার দলীয় কর্মসূচি ও নীতি দিয়ে মূল্যায়নে বিশ্বাস করে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কে দ্বীনের পরিপূর্ণ অনুসারী, কে কোন মাজহাব বা মতবাদে বিশ্বাসী সে বিচারে কাউকে পথভ্রষ্ট, বাতিল, দ্বীনে ইলাহীর অনুসারী ইত্যাদি বিভেদ সৃষ্টিকারী মন্তব্য করা অনুচিত বলে মনে করে। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলো একে অপরকে এ ধরনের ফতোয়া দিয়ে নিজেদের মাঝে হিংসাত্মক অনৈক্যের পরিবেশ তৈরি করছে।

আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই নাগরিকের অধিকার ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এবি পার্টির আদর্শিক নীতি। এর বাইরে কেউ যদি অন্য কোনো নীতি বা পরিচয়ে এবি পার্টিকে চিত্রায়িত করতে চায় সেটা হবে তাদের কল্পনা প্রসূত অনৈতিক অপপ্রচার।

শফিকুর রহমান এবি পার্টির লোকদের ‘আল্লাহ যেন দ্বীনের পথে আবার পরিপূর্ণভাবে ফিরিয়ে আনেন’ এই দোয়া করার আহ্বান জানানোয় এবং প্রাসঙ্গিকভাবে ‘মুসলমানের জীবন কখনো খণ্ডিত হতে পারে না’ বলায় এটা মনে হয়েছে যে তিনি এবি পার্টির লোকদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত এবং খণ্ডিত মুসলমান মনে করেন। একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের জন্য দোয়া করবেন এটা ধর্মীয় রীতি ও পূণ্যের কাজ। কিন্তু একটি দলের প্রধান অন্য একটি রাজনৈতিক দল সম্পর্কে ‘দোয়া’ করার নাম করে এরকম অশোভন ইংগিতপূর্ণ মন্তব্য বাংলাদেশে বিরল ঘটনা। আমরা তার মতো সম্মানিত ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বিভেদ ও অপরাজনীতিমূলক আচরণে ব্যথিত। এরকম রাজনৈতিক চর্চা চালু হলে প্রত্যেক দলই একে অপর দলের জন্য হেদায়াতের পথে আসার, পরিপূর্ণ মুসলমান হবার জন্য দোয়া করতে থাকবে। যা এক ধরনের অসুস্থ সংস্কৃতির জন্ম দেবে এবং মূলত ধর্মেরই অবমাননা হবে।

একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান ও তার অনুসারীদের কাছ থেকে আমরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও শিষ্টাচার প্রত্যাশা করি। আশাকরি তিনি ও তার দলের কর্মীরা এ ব্যাপারে সততা ও পরম সহিষ্ণুতার স্বাক্ষর রাখবেন।

জেইউ/এমএফ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]