পাটকল বন্ধ ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী : ন্যাপ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৫ পিএম, ০৪ জুলাই ২০২০

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী, দায়িত্বহীন ও আত্মঘাতী। অতীতের সরকারের পথ অনুসরণ করে রাষ্ট্রয়ত্ত পাটকল বন্ধে বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণা গণবিরোধী অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের নেতারা।

পাটকল বন্ধে সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (৪ জুলাই) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রতিক্রিয়ায় পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, যে যুক্তিতে অতীতের জোট সরকার আদমজী পাটকল বন্ধ করে দিয়েছিল এখন আওয়ামী লীগ সরকারও একই যুক্তিতে বাকি পাটকলগুলো বন্ধ করে দিয়ে প্রমাণ করেছে সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ রক্ষায় শাসকগোষ্ঠির মধ্যে প্রচণ্ড মিল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। নিজেদের মধ্যে বিরোধ যতই থাকুক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষায় তাদের চরিত্র একই।

মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান হতে পারে না বলে মন্তব্য করে নেতৃদ্বয় বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের অব্যবস্থাপনা, চুরি, দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য পুরো রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পই উঠে যেতে পারে না। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে প্রশ্রয় দিয়ে এবং পাটকলের আধুনিকায়ন না করে আজ যেভাবে লোকসান দেখানো হচ্ছে তার দায়দায়িত্ব সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মকর্তাদেরই বহন করতে হবে। শ্রমিকরা কেন এর দায় বহন করবে?

ন্যাপের এই দুই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, অবশেষে পাটকল রক্ষার সব যুক্তিতর্ক, প্রস্তাবনা ও শ্রমিকদের দাবিকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রায়ত্ত সকল পাটকল বন্ধ করে সরকার জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহণ করল। যা জাতীয় জীবনে দুঃখ, হতাশা ও মর্মবেদনার কারণ হয়ে থাকবে। করোনার ভয়াবহ দুর্যোগকালে পাটকলগুলোর বন্ধের মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঘোষণার কফিনে আরেকটি পেরেক মারল সরকার।

তারা বলেন, পাটকল পরিচালনার জন্য বিজেএমসি গঠিত হয়েছিল; লক্ষ্য ছিল পাট ও পাটশিল্পের বিকাশ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য শাসকগোষ্ঠির সীমাহীন অবহেলা আর ঔদাসিন্যে পাট খাত পিছিয়ে পড়ে। ১০০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা ছিল পাট খাতে, যা কাজে লাগানো যায়নি। পুরো পাটের অর্থনীতিকে সাম্রাজ্যবাদী দাতা গোষ্ঠী, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের কুপরামর্শে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তাবেদার আমলাদের কুপরামর্শে ও লুটেরা পুজিঁপতিদের স্বার্থের কাছে পরাস্ত হয়ে সরকার পাটকল বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আত্মঘাতী।

নেতৃদ্বয় বলেন, সকল রাষ্ট্রয়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দিয়ে এর হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তিকে সরকার মুষ্টিমেয় লুটেরাদের হাতে তুলে দেয়ার আয়োজন করছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে পরোক্ষভাবে লাভবান হবে লুটেরাগোষ্ঠি। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের যখন চাহিদা বেড়েছে তখন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

কেএইচ/এমএফ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]