‘পরাজিত পরাশক্তিদের চক্রান্তে বেঈমানরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩২ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

‘মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর পাকিস্তানকে সহায়তা করে মার্কিন পরাশক্তি। বাংলাদেশের বিজয়ের মাধ্যমে তাদের পরাজয় হয়। পরাজিত সেই শক্তি কখনোই বাংলাদেশের বিজয় মেনে নিতে পারেনি। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করেছিল। তাদের চক্রান্তে এ দেশের বেঈমান মীরজাফররা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে।’

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় ভার্চুয়ালি এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। তখন বিশ্ব রাজনীতিতে দুটি ধারা ছিল। একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে, আরেকটি সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে। আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত সেই সময় সোভিয়েত ব্লকে, পক্ষান্তরে পাকিস্তান ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। যার ফলে গ্লোবাল পলিটিক্স চলে আসে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়।

তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে একদিকে একটি জাতির সৃষ্টি হলো, একটি দেশ হলো। আরেকদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটা জয়-পরাজয় হলো। যারা আমাদের পক্ষে ছিল তারা বিজয়ী হলো, আর বিপক্ষের শক্তি পরাজিত হলো। এই পরাজয় আন্তর্জাতিক মহল মেনে নিতে পারেনি। তাদের চক্রান্তই ছিল বঙ্গবন্ধুর সরকারকে কীভাবে উৎখাত করা যায়। কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা যায়। আর তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সফল হয়েছিল। তারা বঙ্গবন্ধুর সরকারকে শুধু উৎখাতই নয়, তার মতো একজন মহামানবকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

হানিফ বলেন, বাংলাদেশের কিছু ষড়যন্ত্রকারী যদি আন্তর্জাতিক শক্তিকে সহায়তা না করত বা তারা যদি মুখ্য ভূমিকা না রাখত তাহলে বাইরের কোনো শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারত না। বঙ্গবন্ধু বাঙালিদের প্রচণ্ড বিশ্বাস করতেন। তিনি ভাবতে পারেননি কোনো বাঙালি কোনোদিন তাকে হত্যা করতে পারে বা তার বিরুদ্ধে যেতে পারে। দুর্ভাগ্য আমাদের আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীরা সফল হয়েছিল, আমাদের দেশের বেঈমান মীরজাফরদের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, আজ আমাদের একটাই লক্ষ্য, তা হলো জাতির পিতা যে স্বপ্ন নিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তা আজ বাস্তবায়নের পথে তারাই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আজ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ভারত জুজুভীতি দেখিয়ে একটি রাজনীতি শুরু হয়। এ সংকটটা ছিল প্রকট এবং বিরাট। এর নেপথ্যের নায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ষড়যন্ত্রটা পাকাপোক্ত করেন। সে সময় মুক্তিযুদ্ধের শক্তির ভেতরেও ছিল একটি বিভেদ। জাতির পিতাকে হত্যায় সেটাকেউ কাজে লাগানো হয়েছে। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। এটা পাকিস্তান বানানোর একটি ষড়যন্ত্র। সেই থেকে দীর্ঘ ২১ বছর এ ষড়যন্ত্র চলেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার কলঙ্ক থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ক্ষমতায় আসার পরই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করলেও তার পেছনের শক্তি করা তারা কিন্তু এখনও একেবারে আড়ালেই রয়ে গেল।

নানক বলেন, এবারের শোক দিবসে আমরা শপথ নেব, সংগঠিত হব, শক্তি সঞ্চয় করব আর সতর্ক হব। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না সেদিন কিন্তু নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছিল, নেতৃত্বে ছিল কাপুরুষতা, ভীরুতা, দৌদুল্যমানতা এবং আপসকামিতা। সেগুলো আমরা দেখেছি। তাই আজকের প্রেক্ষাপটে সেই ভীরুতা, কাপুরুষতা, আপসকামিতার কোনো সুযোগ নেই। শত্রুকে শত্রু হিসেবেই চিহ্নিত করতে হবে, মিত্রকে মিত্র হিসেবেই চিহ্নিত করতে হবে। বিএনপি, জামায়াত ও আইএসআই শক্তি তাদের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অত্যন্ত সচল ও সচেষ্ট আছে।

সভায় আরও আলোচনা করেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসরিন আহমেদ, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, লেখক ও সাংবাদিক আবেদ খান, ভাষাতাত্ত্বিক শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার প্রমুখ।

এইউএ/বিএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]