জাতীয় পার্টি আমার সন্তানের বাবার গড়া, অন্য কারও নয়

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২০

বিদিশা এরশাদ। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তন স্ত্রী। সম্প্রতি ছেলে এরিকের সঙ্গে অবস্থান করছেন এরশাদের রেখে যাওয়া বাড়ি প্রেসিডেন্ট পার্কে। এ নিয়ে হচ্ছে নানা আলোচনা-সমালোচনাও। বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হন জাগো নিউজ’র। দীর্ঘ আলোচনায় রাজনৈতিক বিভিন্ন অভিব্যক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ : প্রেসিডেন্ট পার্কে অবস্থান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে রাজনৈতিক অভিব্যক্তিও প্রকাশ করছেন। জানতে চাই রাজনৈতিক ভাবনা প্রসঙ্গে…

বিদিশা এরশাদ : আমি তো রাজনীতিতে-ই আছি। এখন হয়তো তেমন সক্রিয় নই। কিন্তু একটা সময়ে এসে অবশ্যই সক্রিয় হবো।

জাগো নিউজ : সে রাজনীতি কি জাতীয় পার্টির অধীনেই?

বিদিশা এরশাদ : অবশ্যই জাতীয় পার্টির রাজনীতি। জাতীয় পার্টি আমার সন্তান এরিক এরশাদের বাবার গড়া। অন্য কারও বাবার জাতীয় পার্টি নয়।

সাধারণত পার্টির উত্তরাধিকার সূত্রে সন্তান বা স্ত্রীরাও প্রতিনিধিত্ব করে।

জাগো নিউজ : কিন্তু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তো সেই উত্তরাধিকার আপনাকে করে যাননি?

বিদিশা এরশাদ : ২০০৫ সাল পর্যন্ত আমি পার্টিতে সক্রিয় ছিলাম। পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার ছিলাম। রাজনীতির কারণেই আমাকে জেলে যেতে হয়েছে, মামলায় পড়তে হয়েছে।

জাতীয় পার্টি থেকে আমাকে বহিষ্কার করা হয়নি। আমার পদ স্থগিত রাখা হয়েছে। আমি দলের বিদেশ ও নারী উইংসটা দেখাশোনা করতাম। এরশাদ সাহেবের উপদেষ্টা হিসেবে দেশ-বিদেশে ঘুরেছি, দায়িত্ব পালন করেছি।

একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে আমার ওপর জুলুম করা হয়েছে। জেলে যেতে হয়েছে। আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ওই প্রেক্ষাপটেই আমাকে রাজনীতি থেকে সরে আসতে হয়েছে। কিন্তু তাই বলে তো সব বিচ্ছিন্ন করে আসিনি। দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে নেই, কিন্তু মানুষগুলোর সঙ্গে তো আমার যোগাযোগ রয়েছে।

bidisa-02

এ যোগাযোগের কারণেই মানুষ এরশাদ সাহেবের মৃত্যুর পর আমার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন। আবার এমনও হতে পারে যে, এখন যারা দল পরিচালনা করছেন তারা হয়তো জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছেন না। মানুষ তো আসলে পরিবর্তন চায়।

নতুন প্রজন্ম তো নতুনদেরই চাইবে। যাদের স্পিড আছে, তেজ আছে…, জনগণ আমাকে দলে চাইছে এবং এই চাওয়াকেই আমি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

জাগো নিউজ : পার্টিতে আপনার পদ স্থগিত রাখা হয়েছে। তাহলে ফেরার উপায় কী?

বিদিশা এরশাদ : এ নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। রংপুরবাসী সিদ্ধান্ত নেবে। তারপরই তো বিপ্লব হবে। বিপ্লব ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

জাগো নিউজ : এমন পরিবর্তনে দলের মধ্যে কোনো ভাঙনের সুর…

বিদিশা এরশাদ : দলের ভাঙনটা আমি চাইছি না। আমি চাই, সবকিছু বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে হোক।

জাগো নিউজ : ভাঙা-গড়া তো জাতীয় পার্টির ঐতিহ্য…

বিদিশা এরশাদ : হ্যাঁ, তা তো আছেই। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে ভাঙনটা চাই না। যারা আজ আমার বিরোধিতা করছেন, তারা একসময় বুঝবেন যে, জাতীয় পার্টিতে তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে। আমি সেই বোঝানোর জায়গায় আছি।

জাগো নিউজ : এখন জাতীয় পার্টি সরকারের অনুগত বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখছে। জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

বিদিশা এরশাদ : জাতীয় পার্টি যদি সরকারের অনুগত হিসেবে কাজ করে, তাহলে সেটা অবশ্যই সরকারের কৃতিত্ব। জাতীয় পার্টি তো আসলে আগের জায়গায় নেই। এমনকি এরশাদ সাহেব যে পার্টি রেখে গেছেন, তা-ও আর নেই।

দলে কিছু মানুষ আছেন, যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য রাজনীতি করছেন। এই চিত্র আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্যান্য দলেও আছে।

সরকারবিরোধী দলের কোনো সমালোচনা বা বিরোধিতার তোয়াক্কা করছে না, এটা ঠিক; কিন্তু বিরোধী দলের তো একটা শক্ত অবস্থান থাকা দরকার। সাধারণ মানুষও সেটি চায়। পার্টির চেয়ারম্যান নতুন একটা জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বলে সম্প্রতি জানতে পারলাম। দেখা যাক, কী ভূমিকা রাখেন।

bidisa-03

জাগো নিউজ : জাতীয় পার্টিতে নানা বিভাজন বিদ্যমান। আপনি কোনো বিশেষ গ্রুপকে…

বিদিশা এরশাদ : আমি গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তবে পার্টিতে অনেকেই বঞ্চিত, লাঞ্ছিত হয়েছেন। এরশাদ সাহেবের অনেক কাছের মানুষ ছিলেন, যাদের দল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে; তারা আমার সঙ্গে আছেন। এরিক ও আমার অধিকার নিয়ে যারা সোচ্চার ছিলেন, তারাও আমার সঙ্গে আছেন।

জাগো নিউজ : রাজনীতিতে পুরোদমে সক্রিয় হলে তো নতুন নতুন ভাবনার প্রকাশ পাবে, যেখানে জনআস্থা মিলবে। এমন কোনো ভাবনা বা পরিকল্পনা…

বিদিশা এরশাদ : নানা কারণেই তরুণ সমাজ হতাশ। বিভ্রান্তিও আছে তাদের মাঝে। মানুষ এখান থেকে মুক্তি চায়। তরুণদের মাঝে কাজের বিস্তার ঘটুক, তারা ব্যক্তি উন্নয়নে মনোযোগী হোক, তাহলেই হতাশা কেটে যাবে। এতে দেশ ও সমাজ উপকৃত হবে। আমি তরুণদের মাঝে সেই ভাবনার উদয় ঘটাতে চাই।

আমাদের পরিবেশ রক্ষায় প্রচুর কাজ করতে হবে। প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার সময় এসেছে। এসব সামাজিক দাবি হলেও সমাধান মিলবে রাজনৈতিকভাবেই। আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ব্যবস্থাপনার নানা অসঙ্গতি বর্তমান করোনা পরিস্থিতি চিহ্নিত করে দিয়েছে। পৃথিবী রিফর্ম করছে। পরিবর্তিত পৃথিবীতে অর্থনীতি, রাজনীতি, উন্নয়ন নিয়ে আমাদের এখনই ভাবতে হবে। এসব নিয়েই কাজ করা দরকার। আমি এই রাজনীতিতেই গুরুত্ব দিয়ে আসছি।

জাগো নিউজ : দীর্ঘ সময় পর ছেলে এরিক এরশাদের সঙ্গে থাকছেন। এখনকার অনুভূতি যদি জানাতেন…

বিদিশা এরশাদ : অদ্ভুত একটা বিষয় শেয়ার করি। এরশাদ সাহেবের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল ফ্রান্সে, বাংলাদেশ দূতাবাসের এক অনুষ্ঠানে ১৪ জুলাই। সেই ১৪ জুলাই তিনি মারা যান। এই যে প্রেসিডেন্ট পার্কের বাড়িটিতে যা দেখছেন, তার প্রায় সবই আমার সংগ্রহ করা। বিভিন্ন দেশ থেকে এসব সংগ্রহ করে এনে বাড়িটি সাজিয়েছি। এখানে আমরা দুজনে মিলে নতুন করে সংসার পেতেছিলাম।

এমন সংসার থেকে বিতাড়িত হই ২০০৫ সালে। অনেক অপমান-অপদস্ত হয়ে আমাকে এখান থেকে চলে যেতে হয়। রাজনৈতিক কারণেই আমার সংসার ভাঙে। আজ ছেলে আমার কাছে। একজন মা হিসেবে এই অনুভূতি আসলে প্রকাশ করা যায় না।

জাগো নিউজ : প্রেম-পরিণয়ের মধ্য দিয়ে আপনাদের সংসার। বললেন, রাজনীতির কারণে সেই সংসারের ভাঙন। তাহলে কি প্রেমিক হিসেবে এরশাদ ব্যর্থ?

বিদিশা এরশাদ : না। আমি তা মনে করি না। রাজনীতির রোষানলে পড়ে আমাদের পুড়তে হয়েছে।

জাগো নিউজ : প্রেম আবেগ বোঝাপড়ার বিষয়। রাজনীতির ঊর্ধ্বেও থাকার কথা…

বিদিশা এরশাদ : তিনি প্রেমিক মানুষ হলেও পুরোদস্তুর রাজনীতিক ছিলেন। প্রেম ছিল বলেই তো আমাকে বিয়ে করেছিলেন। ছোটবেলায় শুনতাম, তার অমুক অমুক গার্লফ্রেন্ড ছিলেন। তাহলে তাদের কাছেই তিনি পড়ে থাকতেন। তা তো করেননি। উনি আমাকে মর্যাদা দিয়েছেন। আমাকে ঘর দিয়েছেন, সংসার দিয়েছেন।

মূলত ওই পরিস্থিতিটা আমাদের অনুকূলে ছিল না। রাজনৈতিক কূটচালের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম, যেখান থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারিনি। এত বড় প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে মনে হয় আর কেউ পড়েনি।

bidisa-04

কী পরিমাণ দুঃখ আমাকে তখন পোহাতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। সংসার নেই, স্বামী নেই। শুধু মামলা, জেল আর আদালত। সাত হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোন চুরির মামলাও দেয়া হয়েছিল আমার বিরুদ্ধে। একটি রাষ্ট্র তখন আমার বিপক্ষে। আমি একা রাষ্ট্রের বিপক্ষে লড়েছি। রাজনীতির কী বুঝতাম তখন? আর ষড়যন্ত্রই বা কী!

জাগো নিউজ : এখন বুঝতে পারেন?

বিদিশা এরশাদ : আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট গঠন নিয়ে আমার খুব উৎসাহ ছিল। এ কারণেই বিএনপি-জামায়াত সরকার নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে।

জাগো নিউজ : কিন্তু মহাজোট তো গঠন হলো। সরকারও গঠন হলো। কিন্তু আপনার মূল্যায়ন?

বিদিশা এরশাদ : আমাকে ফুলের তোড়া দেবে? স্বর্ণের নৌকা দেবে? না। আমি এগুলো প্রত্যাশা করিনি। আমি চাইনি। প্রমাণ করেছি, সে ধরনের মানুষ আমি নই।

আমি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। সারাজীবন মানুষকে দিয়ে এসেছি। আমি নিতে পছন্দ করি না। জীবনে কারও কাছে কিছু চাইনি। এমনকি আমার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো নিয়ে একাই লড়েছি। সরকারের কারও কাছে ধরনা দেইনি যে, আমার মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিন।

তবে হ্যাঁ, তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ আমার ওপর নির্যাতনের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছে। তখন সেটি আমার জন্য বড় প্রাপ্তি ছিল। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।

জাগো নিউজ : মামলাগুলোর কী অবস্থা?

বিদিশা এরশাদ : সব মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে।

bidisa-05

জাগো নিউজ : জোটে গিয়ে এরশাদ সাহেব ক্ষমতার অংশীদার হলেন। সুদিনে ফের বন্ধন গড়তে পারতেন…

বিদিশা এরশাদ : একসময় এরশাদ সাহেব ক্ষান্ত দেন। তিনি বলেন, বিদিশা তোমার মাতৃত্বের কাছে আমি হেরে গেছি। যে ক’দিন আমি বাঁচব, তুমি এরিককে আমার কাছে রেখে দাও। তুমি যখন এরিককে দেখতে চাও, চলে আসবা। আবার এরিককে আমার কাছেও পাঠাতেন। মন চাইলে ছেলেকে দেখতে আসতেন, নিতে আসতেন।

পছন্দের কোনো খাবার খেতে মন চাইলে আমাকে ফোন করতেন। আমি খাবার নিয়ে আসতাম বা পাঠিয়ে দিতাম।

আমার জন্য যে প্রেম তা সবসময়ই তিনি লালন করতেন। তা না হলে তো আজ আমি আরেকজনের স্ত্রী হয়ে যেতাম। তা তো করিনি। যে বাড়ি থেকে এত অপমানিত হয়ে বের হয়েছি, সেখানে কেন ফেরত আসব?

লন্ডনে আমার বাড়িঘর রয়েছে। এখানে কেন ফেরত আসব? সন্তানকে নিয়ে সেখানেও চলে যেতে পারতাম। আমার কাছ থেকে এরশাদ সাহেবের জায়গাটা কেউ নিতে পারবে না। তার প্রেম সত্য কি মিথ্যা ছিল- তা আমি জানি না। এটি প্রশ্নের ব্যাপার। কিন্তু আমি তো এনজয় করেছি।

তিনি তো আমার প্রতি যত্নশীল ছিলেন। ছোট ছোট বিষয় নিয়েও আমার সঙ্গে শেয়ার করতেন। আমি এ বাড়িতে থাকিনি বহুদিন। কিন্তু দেখেন, আমার কোনো কিছুতে তিনি হাত দেননি। পরিবর্তন করেননি। আমি অবাক হয়েছি। যে বিছানায় আমি ঘুমাতাম, সেই বিছানায়ই তিনি ঘুমিয়েছেন শেষ দিন পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় বিষয়, অনেক কিছুই তিনি ছেড়েছেন, কিন্তু আমার এরিককে তিনি ছাড়েননি। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দিয়েছেন এরিককে। এরিককে ভালোবাসা মানেই তো আমাকে ভালোবাসা। এই ভালোবাসা নিয়েই আমি বেঁচে থাকতে চাই।

জাগো নিউজ : সেনাশাসক থেকে প্রেমিক এরশাদ। মূল্যায়ন করছেন নানাভাবেই। এখন কী বলবেন, সেই প্রেম নিয়ে…

বিদিশা এরশাদ : বিয়ের আগে তার সঙ্গে যে প্রেম ছিল, তা আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেম বলে মনে হয়েছে। বিয়ের পরে আরেক রকম প্রেম। সন্তানের প্রতি আরেক রকম প্রেম। সবকিছু দেখে আমার কাছে কখনও খারাপ মনে হয়নি। তিনি যেমন শ্রেষ্ঠ প্রেমিক, শ্রেষ্ঠ পিতা। মৃত্যুর আগে আমার কাছে ক্ষমাও চেয়ে গেছেন। হাসপাতালে ৪০ মিনিট আমার হাত ধরে কান্না করেছেন। তার চোখের পানি আমার পা ভিজিয়ে দিয়েছে। পার্টি এবং এরিকের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়ে যান। তার প্রিয় নোটবুকটা আমাকে দিয়ে যান।

জাগো নিউজ : আর কোনো স্মৃতি…

বিদিশা এরশাদ : তার সঙ্গে যা আছে সবই তো স্মৃতি। যতদিন বেঁচে থাকব, তার স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকব। রংপুরে দাফন হয়েছে। এটিই আমার কাছে বড় শান্তির।

আমি এরিকের মধ্যে ওর বাবাকে দেখতে পাই। ওর বাবার মতোই খুঁতখুঁতে। গোছানো। সারাক্ষণ আমার হাত ধরে থাকে। বাজে কোনো অভ্যাস নেই। আইন নিয়ে পড়াশোনা করছে। সে আমাকে আইনি এবং রাজনৈতিক সহায়তা করবে বলেই আইন নিয়ে পড়ছে। সে চায়, তার বাবার চেয়ারে আমি বসি। ওর মধ্যেই বাবার সব স্মৃতি হাতড়াই।

bidisa-06

জাগো নিউজ : একসময় এরিকের সঙ্গে আপনাকে দেখা করতে দেয়া হয়নি— এমন অভিযোগ করেছেন। এখন আপনি এরিকের সঙ্গে ওর স্বজনদের দেখা করতে দিচ্ছেন না। এ অভিযোগের বিপরীতে কী বলবেন?

বিদিশা এরশাদ : আমার অভিযোগ তো সত্য। ছেলের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দেয়া হয়নি, খেতে দেয়া হয়নি। গাড়ির ড্রাইভার মারপিট করেছে। সে মিডিয়ায় লাইভে সব বলেছে।

আমি তো কাউকে আটকাইনি। সবাই আসছে। এই তো দলের নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার এরিকের জন্য কাপড় নিয়ে এলেন। সিনিয়র নেতারা যোগাযোগ করছেন। যে স্বজনরা সন্তানকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা রাখতে চায়, তারা তো স্বজন হতে পারেন না।

জাগো নিউজ : রাজনীতি দিয়েই শেষ করি। রাজনীতির প্রত্যাশা নিয়ে কী বলবেন?

বিদিশা এরশাদ : রাজনীতির মাঠে সফল হবো— এ বিশ্বাস আমার আছে। বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে নির্বাচন করলেই বিজয়ী হয়ে আসতে পারব। মানুষের প্রচুর ভালোবাসা পাচ্ছি। আমি আমার কর্ম দিয়ে পরিচিত হতে চাই। করোনার সময়ও আমি রাস্তায় রাস্তায় গিয়ে মানুষের জন্য খাবার বিতরণ করেছি। বস্তিতে গিয়েছি। তৃতীয় লিঙ্গ, যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করছি। সবার ভালোবাসা, দোয়া তো আছে।

জাগো নিউজ : এই মুহূর্তে গুরুত্ব পাচ্ছে কোনটা; ট্রাস্ট, এরিক নাকি রাজনীতি?

বিদিশা এরশাদ : ট্রাস্ট বনাম দল। এটি আমাকে অবাক করেছে। এটি হয় কখনও! তার মানে, আমার জনপ্রিয়তাকে তারা এত ভয় পায়!

ট্রাস্টের আমি কেউ নই। এরিক যা চাইবে ট্রাস্টের তা-ই হবে। প্রতিবন্ধী শিশুদের চাওয়াকে আরও অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

আমি তো মা। আমি শুধু আমার সন্তানকে চাই। ট্রাস্টে কয় টাকা আছে? পুরো বাড়ি নয়, এই ফ্ল্যাটটা শুধু, রংপুরের পল্লী নিবাস…, পল্লী নিবাসে আমরা যাইও না। গুলশান, বনানীতে একটি করে ফ্ল্যাট আছে। সেগুলোর চাবিও নেই আমার কাছে। জানতেও চাই না। গাড়ি, বাড়িগুলো সবই ট্রাস্টের অধীনে। চাইলেও কেউ ভোগ করতে পারবে না।

কোনো আয়ের পথ তো আমি দেখি না। উল্টো আমাকেই খরচ চালাতে হচ্ছে। এরিকের নামে যে ১৩-১৪ কোটি টাকা আছে, তা এফডিআর করা। এরিকের খরচ, বাড়ি-গাড়ির ব্যবস্থাপনার জন্যও তো টাকা দরকার।

bidisa-07

জাগো নিউজ : ট্রাস্টের বাইরে আর কোনো সম্পত্তি, যেখানে এরিকের অংশীদারিত্ব আছে?

বিদিশা এরশাদ : না। আর কোনো সম্পদ আছে বলে আমার জানা নেই। কারও জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন।

জাগো নিউজ : আপনার তো জানার কথা…

বিদিশা এরশাদ : কোনো আগ্রহ ছিল না। এখনও নেই। তার সম্পদের জন্য তো বিয়ে করিনি।

জাগো নিউজ : এখন রাজনীতি নিয়ে যেভাবে সরব হচ্ছেন, তা আগে দেখা যায়নি। পেছনের শক্তি কী?

বিদিশা এরশাদ : আমার পেছনে আছে জনগণ। তরুণরা আমাকে চাইছে, যাতে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে আসি।

জাগো নিউজ : অন্য কোনো শক্তি?

বিদিশা এরশাদ : না। জনগণই আমার শক্তি। অনেকেই অভিযোগ করতে পারেন, গুজব ছড়াতে পারেন। তাতে কিছু যায় আসে না। আমার সন্তানও চায় আমি রাজনীতিতে আসি।

জাগো নিউজ : সরকারি দলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ…

বিদিশা এরশাদ : আমি তো আওয়ামী লীগ করি না। কিন্তু মানুষ হিসেবে মানুষের সঙ্গে তো যোগাযোগ থাকবেই। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে, এটি খুবই স্বাভাবিক।

এএসএস/এমএআর/পিআর

জনগণই আমার শক্তি। অনেকে অভিযোগ করতেই পারেন, গুজব ছড়াতে পারেন। তাতে কিছু যায় আসে না। আমার সন্তানও চায় আমি রাজনীতিতে আসি

আমার কাছ থেকে এরশাদ সাহেবের জায়গাটা কেউ নিতে পারবে না। তার প্রেম সত্য কি মিথ্যা ছিল, তা আমি জানি না। এটি প্রশ্নের ব্যাপার। কিন্তু আমি তো এনজয় করেছি

সাত হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোন চুরির মামলাও দেয়া হয়েছিল আমার বিরুদ্ধে। একটি রাষ্ট্র তখন আমার বিপক্ষে। আমি একা রাষ্ট্রের বিপক্ষে লড়েছি। রাজনীতির কী বুঝতাম তখন

ছোটবেলায় শুনতাম, তার অমুক অমুক গার্লফ্রেন্ড ছিলেন। তাহলে তাদের কাছেই তিনি পড়ে থাকতেন। তা তো করেননি। উনি আমাকে মর্যাদা দিয়েছেন। আমাকে ঘর দিয়েছেন, সংসার দিয়েছেন

সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। রংপুরবাসী সিদ্ধান্ত নেবে। তারপরই তো বিপ্লব হবে। বিপ্লব ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]