অস্থির সরকার দিয়ে দেশের ভালো কাজ হবে না : আলাল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৩ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, দেশে এখন অস্থির সময় চলছে। এই সময়ে স্বস্তির সরকার চাই। বর্তমান সরকার হচ্ছে অস্থির সরকার, যন্ত্রণার সরকার, লুটেরা, নিপীড়নের সরকার, ভোটারবিহীন সরকার। সুতরাং এই অস্থির সরকার দিয়ে দেশের কোনো ভালো কাজ হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মে’র উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

আলাল বলেন, এই সরকার অনেক সময় অনেক কথা বলে। উন্নয়নের মেট্রোরেল, উন্নয়নের পদ্মা সেতু, উন্নয়নের মহাসড়ক। কিন্তু তাদের ভাওতাবাজি চুরি-বাটপারি একের পর এক বের হয়ে আসছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আগেও প্রতিবাদ করেছেন, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন, এখনো করতে হবে। এই সরকারের চারজন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে, অতিরিক্ত সময় চাকরি করে, জনগণের কোটি কোটি টাকার ট্যাক্স সুবিধা নিয়ে অবসরে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘প্রতিটি এমপি-মন্ত্রীর প্রতিবছর সম্পদের হিসাব দিতে হবে’। আজ পর্যন্ত কি এটার কার্যক্রম হয়েছে? কোনো কথা তারা রাখেন না। তারা একেক সময় একেক রকম কথা বলে। তাদের কথা কেউ বিশ্বাস করবেন না।

আলাল বলেন, ভারতের কৃষক শ্রমিক থেকে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের বিষয়টা রাজনৈতিক। আমরাও জানি এটা রাজনৈতিক। রাজনৈতিক এই কারণে যে ভারতের যে দেশে পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন হয়, কিছুদিন পরেই সে প্রদেশ‌ে নির্বাচন। আর তাদের সরকার মনে করেছে, ‘এখন যদি পেঁয়াজ রফতানি করি তাহলে আমার কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে না, ভোট কমে যাবে’। সুতরাং তারা ঠিক কাজটাই করেছে। বাংলাদেশে জনগণের সরকার থাকলে তাই করতো। ভোটের সরকার থাকলে তাই করতো।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের মূল্য, গ্যাসের মূল্য দফায় দফায় বাড়িয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু শোনেনি। বিএনপির পক্ষ থেকে টানা তিনদিন আমি শুনানিতে ছিলাম। যুক্তি দিয়ে তর্ক দিয়ে আমি দেখিয়ে দিয়েছি। আমি আপনাদেরকে ছোট্ট করে একটি উদাহরণ দিই, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম নূরে আলম সিদ্দিকী। ১৯৭১ সালের ৪ ছাত্রনেতাদের একজন। তার একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। তিনি সরকারকে বিদ্যুৎ দিতে চাচ্ছেন প্রতিটি ইউনিট ২ টাকা ৮৬ পয়সা করে। তার কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিয়েছে সামান্য পরিমাণ। অথচ কর্নেল ফারুক খানের ভাই আজিজ খানের প্রতিষ্ঠান থেকে একই বিদ্যুৎ নিচ্ছে ৩০ টাকা ৮৬ পয়সা করে। কোথায় তিন টাকা আর কোথায় ৩০ টাকা! এইভাবে চুরি চলছে আর ভাগাভাগি চলছে। সুতরাং এ ভাগাভাগি সরকারের কাছ থেকে কোনো ভাল পররাষ্ট্রনীতি পাওয়ার আশা করা যায় না। কোনো ভালো কূটনীতি আশা করা যায় না।

আলাল বলেন, আমাদের দুর্বলতার কারণে ভারত, চীন, রাশিয়া সুযোগ নিচ্ছে। মিয়ানমারের মতো ছোট একটি দেশ, তারাও সুযোগ নিচ্ছে। যেহেতু এই সরকারের জনসমর্থন নেই, তারা জানে সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হবে না। কিন্তু সেই বিদ্রোহীরা এক সময় জেগে উঠবে। তারা হলেন, মুক্তিযোদ্ধা। আমরা তাদের পাশে থাকব।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, শিরিন সুলতানা, সাদেক খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর প্রমুখ।

কেএইচ/এমএসএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]