জ্ঞান বিতরণের প্রতিষ্ঠান হয়ে যাচ্ছে নারী লাঞ্ছনার কেন্দ্র : রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশে বিপথগামী ও পৈশাচিক সমাজ তৈরি করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘আজকে জ্ঞান বিতরণ ও বিচ্ছুরণের প্রতিষ্ঠান হয়ে যাচ্ছে কসাইখানা ও নারী লাঞ্ছনার কেন্দ্র।’

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিঞা মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জিসাস নেতা রবিউল ইসলাম রাজু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জিসাসের চেয়ারম্যান নাহিদ গুলনার ইভার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্রসফায়ার দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। এ তালিকায় প্রতিমাসে দুজন একজন বিএনপির নেতাকর্মীও আছেন। কিন্তু তাদের রক্তবিন্দু থেকেই জাতীয়তাবাদীদের জন্ম হয়। সরকার আমাদের অনেক লোককে গুম করে ফেলেছে। কিন্তু তবুও বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে নাকি প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের গভীর সম্পর্ক। হাসিনা বলেছেন, তিনি ভারতকে নাকি যা দিয়েছেন তা ভোলা যায় না। এখন তো প্রশ্ন জাগে তিনি ভারতকে কী দিয়েছেন? দেশের পতাকা নাকি সার্বভৌমত্ব?’

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করছেন। কিন্তু দেশের নাগরিকরা নিজ বাসায় অনিরাপদ। প্রকাশ্যে নারীর সম্ভ্রমহানি হয়। ছাত্রলীগ সিলেটের এমসি কলেজে নারী লাঞ্ছনা করেছে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ভারতকে নিয়ে ফেসবুকে লেখার কারণে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার নেই। বরং হত্যাকারীদের জেলখানায় পরীক্ষার খাতা সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা বহু ছাত্র হত্যা করছে। ছাত্রদল না পেলে নিজেরা নিজেরা মারামারি কোপাকুপি করে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘দেশে নষ্ট প্রজন্ম, পৈশাচিক সম্প্রদায় তথা বিপথগামী সমাজ তৈরি করেছে সরকার। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে? কিন্তু তাদের দ্বারাই তো এসব হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এসব হচ্ছে।’

রিজভী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ধর্ষিতা নারীর কান্না কি প্রধানমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদেরের কানে যায় না? তারা কি ক্রসফায়ারে মারা যাওয়া স্বজনদের কান্না শোনেন না। আমাদের দলের নেতা ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হীরু, পারভেজ, সুমনসহ বহু নেতাকর্মী অদৃশ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে বিএনপি ও ছাত্রদল যাতে কোনো কর্মসূচি করতে না পারে সেজন্য লাঠিসোঁটা রামদা নিয়ে হামলে পড়ে তারা। আজকে জ্ঞান বিতরণ ও বিচ্ছুরণের প্রতিষ্ঠান হয়ে যাচ্ছে কসাইখানা ও নারী লাঞ্ছনার কেন্দ্র। আসলে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন সবকিছুই সরকারের বশংবদ।’

রিজভী বলেন, ‘পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ঢুকতে দেয়নি। এর আগে এতো খারাপ লোক নির্বাচন কমিশনে আসেনি।’

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘এমসি কলেজের ঘটনায় তো দৃষ্টান্ত করতে পারত এক ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করে। আসলে যারা ১২ বছর অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা করে তারা তো ভালো কাজ করবে না। বর্তমানে সমাজবিরোধী দুর্বৃত্তে পরিণত হয়েছে ছাত্রলীগ।’

রিজভী বলেন, ‘সম্প্রতি ইনডেমনিটি নামে চটি বস্তাপচা নাটক তৈরির মাধ্যমে যারা শহীদ জিয়াকে খাটো করার চেষ্টা করছে তারা জনগণের কাছে কালো তালিকাভুক্ত হয়ে থাকবে। জনগণ তাদেরকে ও সরকারের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন জনগণের ক্ষোভের আগুন উৎসারিত হলে সরকারের সকল অনাচার ও পাপ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আবুল হাশেম রানা জিসাসের প্রতিষ্ঠাতা ছিল। তিনি জিসাসের প্রোগ্রামের দ্বারা বিএনপিকে জাগিয়ে রাখতেন। দলের সংকটে দুর্যোগে ভূমিকা রেখেছেন। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করে গেছেন। আবুল হাশেম রানার মৃত্যুতে অনেকখানি ক্ষতি হয়ে গেছে।’

কেএইচ/এফআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]