ছাত্রলীগের অপকর্মে ক্যাম্পাসগুলো এখন ডেঞ্জার জোন: রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৩ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ ক্যাম্পাসগুলো ছাত্রলীগ-যুবলীগের অপকর্মে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ডেঞ্জার জোনে’ পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যঙ্গ করে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট কাহিনীনির্ভর কুরুচিপূর্ণ নাটক প্রচারের অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

রিজভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে যেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অফিস রয়েছে, সেসব স্থান সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ডেঞ্জার জোনে’ পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের অফিসের কাছে কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানদের পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। বিশেষ করে মেয়েদের পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাত্রলীগ-যুবলীগের দৌরাত্ম্যে এখন শিক্ষার্থীদের জন্য ডেঞ্জার জোন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যত রাগ-ক্ষোভ সব জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি। আর এ রাগ কী জন্য জানেন আপনারা? উনার (শেখ হাসিনা) বাবা (শেখ মুজিবুর রহমান) যে কাজটি করতে পারেননি, সে কাজটি করেছেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন। তারা এটি অর্জন করতে পারেনি। তাই তাদের ক্ষোভ, ‘কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করলেন? কেন তিনি যুদ্ধ করলেন?’

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চর। যে লোক পাকিস্তানের কমান্ডারকে হত্যা করে যুদ্ধের সূচনা করলেন তিনি হলেন ‘চর’। আর যিনি পাকিস্তানের সেনাদের হাতে বন্দি হয়ে থাকলেন নয় মাস তিনি হলেন ‘নন্দিত’। আওয়ামী লীগের কাছে জিয়া ‘নিন্দিত’, কারণ তিনি বাকশাল চালু করেননি। তা করলে আওয়ামী লীগের কোনো অসুবিধা ছিল না। জিয়াউর রহমান সংবাদপত্র বন্ধ না করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেন দিলেন, এজন্য তিনি ‘নিন্দিত’।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন শুধুই গুণগান শেখ হাসিনার শেখ পরিবারের। তারাই নাকি সবকিছু করেছে। তারা নাকি বাংলাদেশের মালিক! বিএনপি সোচ্চার কণ্ঠে এর প্রতিবাদ করে। বিএনপি যখন তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, যখন গণতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদ করে, তখন তারা প্রতিহিংসায় সমালোচনায় লিপ্ত থাকে।

‘ইনডেমনিটি’ নাটকের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, তাদের কিছু বুদ্ধিজীবী আছে, সংস্কৃতিজীবী আছে। তাদের দিয়ে একটা বস্তাপচা নাটক বানিয়েছে, এ নাটক জনগণ বিশ্বাস করে না। যারা অপপ্রচার করে মিথ্যা কথা বলে, তারা কোনো দিন টিকে থাকে না। সত্যের জয় অবধারিত।

সিলেটের এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগ কর্তৃক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার আর কোনো বৈধতা আছে? না, নেই। আপনার (শেখ হাসিনা) মন্ত্রীরা আপনার জন্মদিন পালন করেন, আপনার লজ্জা করে না? এমসি কলেজের দিকে তাকান, পাহাড়িদের দিকে তাকান। এগুলো ঢাকার জন্য কিছু সাংস্কৃতিককর্মী দিয়ে নাটক রচনা করেছেন। এই নাটক মানুষ দুই পা দিয়ে দলবে। সাধারণ মানুষ এই নাটকের বই নিয়ে এসে দুই পায়ে দলন করবে।

রিজভী বলেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি নাকি রাজনীতির হাটে কেনাবেচা করে’। একবার নিজের দিকে তাকান, আবুল মাল আব্দুল মুহিত কে ছিলেন? তিনি ছিলেন এরশাদের উপদেষ্টা, তাকে আপনারা মন্ত্রী বানিয়েছেন। এ আর খন্দকার সাহেব তিনিও এরশাদের মন্ত্রী ছিলেন, তাকেও আপনারা মন্ত্রী বানিয়েছেন। রাজনীতির হাটে কে কেনাবেচা করে নিজেদের দিকে একবার তাকান।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কেএইচ/এমএসএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]