জিয়ার দিকে তাকা‌নো চোখ উপড়ে ফেলা হবে : আলাল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৪ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২০

আওয়ামী লী‌গের সভাপ‌তি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার উদ্দেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘আগে নি‌জের ঘর সামলান পরে জিয়া (জিয়াউর রহমান), বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দিকে তাকান। তা না হলে ওই চোখ উপড়ে ফেলা হবে। দৃষ্টিহীন করে দেয়া হবে। যা‌তে আপনার দল ও চামচারা নতুন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন না দেখে।’

সোমবার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে আলাল বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনার ঘরের ভেতরেই একটা ইতিহাস লেখা আছে। বাইরের ইতিহাস দেখার প্রয়োজন নেই। রাজনীতির বড় ট্র্যাজেডি হচ্ছে ঘরের মধ্যেই বিভীষণ জন্ম নেয়। সুতরাং আগে ঘর সামলানো পরে জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দিকে তাকান। তা না হলে ওই চোখ এমনভাবে উপড়ে ফেলা হবে। দৃষ্টিহীন করে দেয়া হবে। যেন আপনার দল, চামচারা নতুন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন না দেখে।’

তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা করলে সারাদেশে মানববন্ধন করা যায়। সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেয়া যায়। মানুষকে সংঘবদ্ধ করে অনেক বড় পরিবর্তন সূচনা করা যায়। কিন্তু আমরা এই মুহূর্তে সেটা করছি না। কারণ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে গেছেন। জনগণের শান্তির উদ্দেশে রাজনীতি করে গেছেন। তিনি এমন একটি দল প্রতিষ্ঠা করে গেছেন যে দল নিজে অত্যাচার সহ্য করে জনগণকে অত্যাচার থেকে রক্ষা করে। সেই দল হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।’

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘দেশের দ্রব্যমূল্য কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। বাজারে গেলে মানুষের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির দাম প্রতিনিয়ত বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের চোরদের জোর বেড়েই চলেছে। আবার নতুন করে এই চোরদেরকে ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা শুরু করেছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদেরকে আওতাভুক্ত করা শুরু করেছে। আপনাদের মনে আছে- সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের লুটপাট যখন চূড়ান্ত পর্যায় তখন অর্থমন্ত্রী এই নিয়োগগুলো বন্ধ করেছিলেন। সেগুলো আবার শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে আরেক দফা লুটপাটের চক্রান্ত চলছে।’

যুবদলের সাবেক এ সভাপতি বলেন, ‘যে সমস্ত বন্ধুরা শেয়ার মার্কেটের সঙ্গে জড়িত আছেন। লক্ষ করে দেখবেন, বেক্সিমকোর সেই শকুনের থাবা আবার শেয়ার মার্কেটে বসিয়েছে। আবার আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই বেক্সিমকোর মাধ্যমেই কোভিডের টিকা আনার জন্য যে চুক্তি করা হয়েছে। সেই ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে আগাম টিকা পাঠাতে চাচ্ছে। এই যে বড় বড় লুটপাট এখান থেকে মানুষের চোখ সরানোর জন্য। মানুষের হৃদয়ের থাকা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, আজকের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান সেই জায়গাগুলোতে সরকার বারবার আঘাত করছে। এটা পুরাপুরি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক লুট, বড় বড় বাজেটের নামে লুট, শেয়ার বাজার লুট করে দেশের জনগণকে নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত করে আপনাদের রাজত্ব কায়েমের যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন প্রতিষ্ঠিত হবে না। যতদূর হয়েছে আর হবে না। এখন আর আপনাদের বিদেশি প্রভুদের সাহায্য পাবেন না। বাংলাদেশের মানুষ তো আপনাদেরকে অনেক আগেই ডিভোর্স দিয়েছে। যে কারণে এই হুদার (কে এম নুরুল হুদা) মতো ভুয়া নির্বাচন কমিশনারকে দিয়ে নির্বাচন করাচ্ছেন। যে কারণে ভোটের ওপর থেকে মানুষের আগ্রহ এতটাই কমে গেছে যে তারা এখন ভোট নিয়ে চিন্তা করে না। বরং চিন্তা করে আলু, পেঁয়াজ ও চালের দাম কত।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সুতরাং এই সমস্ত উত্তেজনামূলক কাজ করে মানুষের দৃষ্টি ফেরানোর যে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র সেই জায়গায় গিয়ে রেহাই পাবেন না। বিমানবন্দরের নাম পাল্টানোর জন্য ১২০০ কোটি টাকা, রোবটের ১২ কোটি টাকা, লাল পতাকার ৯২ কোটি টাকা, স্যাটেলাইটের যে টাকা এই প্রত্যেকটি টাকার হিসাব দিতে হবে। দেশের মানুষের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এই প্রতিটি টাকা পাই পাই করে বুঝিয়ে দিতে হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

কেএইচ/এফআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]