‘সেই বিদ্রোহীদেরই’ আ.লীগের প্রার্থী করার প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২১

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। এরই মধ্যে প্রার্থীরা যার যার মতো মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের নানা হুঁশিয়ারির পরও মাঠ ছেড়ে যাননি দলের বিদ্রোহীরা। অথচ নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে সেই বিদ্রোহীদের দুজনকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে দলটি। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ইতোপূর্বে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া দুই নারী কাউন্সিলর প্রার্থী (সংরক্ষিত)।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন নগরের দুই সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী। তারা হলেন ২৮, ২৯ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জিন্নাত আরা বেগম (লিপি) এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জহুরা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ২৮, ২৯ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে জিন্নাত আরা বেগম (লিপি) এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জহুরা বেগমকে ঘোষণা করা হয়। সেই অনুযায়ী গত ১১ মাস ধরে তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মাঠ গুছিয়েছেন। কিন্তু সোমবার (১৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের স্থানীয় দুটি পত্রিকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন কমিটি-২০২১ প্রদত্ত বিজ্ঞাপনে এ দুটি সংরক্ষিত আসনে বিদ্রোহী দুজনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম প্রকাশ করা হয়। এতে আগে মনোনয়ন পাওয়া দুজন ক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত হয়েছেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, সোমবার আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত দলীয় প্রার্থীদের তালিকায় ২৮, ২৯ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ফেরদৌসি আকবর এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে জেসমিন আক্তার জেসির নাম রয়েছে। যারা ইতোপূর্বে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন।

এর আগে গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৮, ২৯ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জিন্নাত আরা বেগম (লিপি) এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জহুরা বেগমকে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে দুই প্রার্থী বলেন, ‘আমরা দলের নিবেদিতপ্রাণ আদর্শিক কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছি এবং ভোটারদের মন জয় করতে সমর্থ হয়েছি। কেন্দ্র থেকে মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু আকস্মিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নামে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন ও তালিকায় বিদ্রোহী প্রার্থীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা শস্যের ভেতর ভূতের বসবাস করার আভাস পাচ্ছি।’

jagonews24

তারা বলেন, ‘আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলীয় হাইকমান্ড বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এরপরও দুই বিদ্রোহীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দল ও সরকারের বিরুদ্ধে অশনিসংকেত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘করোনা মহামারির আগে দল থেকে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দুই সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় তাদের পরিবর্তন করে নতুন দুইজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে যাদের নাম শোভা পাচ্ছে, তারাই দলীয় প্রার্থী।’

এই বক্তব্য নজরে আনা হলে কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক জিন্নাত আরা বেগম (লিপি) বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমাদের সাথে কেউ কথা বলেননি।’

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন করে আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ও চারটি ওয়ার্ডে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় থাকতে বারবার অনুরোধ জানান। অন্যথায় দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ‘প্রভাবশালী’ কিছু নেতা প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’দের পক্ষে থাকায় বিদ্রোহীদের দমানো যায়নি। চসিক নির্বাচনে অংশ নেওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় সমর্থনের বাইরে প্রায় অর্ধশত প্রার্থী আছেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর মাঝেই সংরক্ষিত ওয়ার্ডের দুই বিদ্রোহী নারী কাউন্সিলর প্রার্থীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিলো দলটি। তারা দুজনেই নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ও সাবেক কাউন্সিলর।

আবু আজাদ/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]