এলপিজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক : ন্যাপ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৯ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

করোনাকালে এলপিজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে দেয়া হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় বরং মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। সরকারের কাছে এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিলের দাবিও জানায় দলটি।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া এ দাবি জানান।

তারা বলেন, করোনাকালে জনগণের দুরবস্থার মধ্যে যদি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হয় তাহলে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। এলপি গ্যাস লিমিটেড ১২ দশমিক ৫ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বৃদ্ধির যে প্রস্তাব করেছে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

নেতৃদ্বয় বলেন, মাসে মাসে মূল্য বৃদ্ধির বিইআরসির প্রস্তাব আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। সম্প্রতি সংসদে আইন করে বছরে একাধিকবার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির যে সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে তাও এভাবে মাসে মাসে মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগকে সমর্থন করে না। তাই কমিশনের এ ধরনের চিন্তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। আদালতের আদেশ পালন করা মানে এমন একটি সিদ্ধান্তে আসা নয়। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে। ফলে চিনি শিল্পের মতো পরিণতির দিকে যাবে। সরকারি চিনিকলগুলোতে চড়ামূল্যে চিনি উৎপাদিত হওয়ার পর তা আর বাজারে বিক্রি করা যায় না। এলপিজির ক্ষেত্রেও তাই হতে পারে।

তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রীয়খাতের উন্নয়ন না করে তাদের পণ্যের মূল্য এমন পর্যায়ে নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে করে রাষ্ট্রীয় খাত ধ্বংস হয়, ব্যবসায়ীদের সুবিধা হয়। সরকারি কোম্পানির এলপিজির মূল্য বৃদ্ধির সুপারিশ না করে উল্টো হ্রাস করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় সুলভ মূল্যের গ্যাস সেনাবাহিনীকে দেয়ার পর যা থাকে, তা পরিকল্পিতভাবে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বণ্টন করা যেতে পারে।

ন্যাপের নেতৃদ্বয় বলেন, জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে সরকারি কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধি করে ফান্ড করা যায় না। এটি অযৌক্তিক। কোম্পানি বাড়তি এই দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবে কিনা, সেটি আগে বিবেচনায় নিতে হবে। বেসরকারি কোম্পানিগুলো হাইকোর্টের আদেশের পরও মূল্যবৃদ্ধি করেছে। সেই মূল্যের অর্থ আদায় করতে হবে। পাশাপাশি যেসব লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানি এই দাম বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো মূল্য বৃদ্ধি করে বলেই ঠকছে গ্রাহক।

কেএইচ/এসজে/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]