সুবর্ণজয়ন্তীর ব্যানারে নেই খালেদা, নেতাকর্মীদের অসন্তোষ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ০২ মার্চ ২০২১
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যানারে ছিল না খালেদা জিয়ার ছবি

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। তবে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় আগত বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির যেকোনো ধরনের কর্মসূচিতে সাধারণত তিনজনের ছবির ব্যবহার হয়, যার মধ্যে থাকে দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবি থাকলেও ছিল না খালেদা জিয়ার ছবি। তবে হোটেলের প্রবেশমুখে খালেদা জিয়ার ছবি সংবলিত ফেস্টুন দেখা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠানে আগত নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন— এমন আশঙ্কা থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক নারী সংসদ সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন হচ্ছে, সেখানে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি নেই কেন, এটা আসলে আমার বোধগম্য নয়। জানি না কী কারণে আয়োজকরা ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ছবি ব্যানারে রাখেননি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছবি ব্যানারে যদি পরিকল্পিতভাবে বাদ দেয়া হয়, সেটা এক জিনিস, আর যদি অপরিকল্পিতভাবে হয়ে থাকে তাহলে তা অমার্জনীয় অপরাধ।’ 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, আমানুল্লাহ আমানের নেতৃত্বে নয়াপল্টনে সাজসজ্জা যেটা হয়েছে সেখানে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি রয়েছে। এখানে কেন ম্যাডামের ছবি রাখা হয়নি তা আমি জানি না। আমার মনে হয়, ম্যাডামের ছবি রাখা উচিত ছিল।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের যে উদ্বোধন অনুষ্ঠান, সেখানে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ছবি দেখতে না পেয়ে আমি খুব অবাক হয়েছি। জানি না কী কারণে ম্যাডামের ছবি দেয়া হয়নি। বিষয়টির জন্য আমাদের অনেকেই কষ্ট পেয়েছে। তৃণমূল নেতাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

ব্যানারে খালেদা জিয়ার ছবি না থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান।

সোমবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘বদলে যাওয়া এ এক অন্য রকম বিএনপি। সব আছে, সবাই আছে, শুধু নেই বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ও নামটি। এই ঘোর দুষ্কালেও অনেকেই ছিলেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এই জাঁকালো অনুষ্ঠানে। তবে বিএনপির আমন্ত্রণ পেয়েও সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা এবং দাওয়াত না পাওয়ায় জামায়াত নেতারা ছিলেন অনুপস্থিত।’

jagonews24

হোটেলের প্রবেশমুখে খালেদা জিয়ার ছবি সংবলিত ফেস্টুন চোখে পড়ে

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে, রাজনীতির ইতিহাসে, গণতন্ত্রের ইতিহাসে, মানবাধিকারের ইতিহাসে, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার ইতিহাসে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম জড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন যে খালেদা জিয়ার ছবি বিএনপি রাখেনি, এটা আমার কাছে একটু অন্যরকম লাগছে।খালেদা জিয়ার ছবি থাকলে সেটা পূর্ণতা পেত। এ ব্যাপারে বিএনপির ব্যাখ্যা দেয়া উচিত।’

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ব্যানারে খালেদা জিয়ার ছবি না থাকা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি ‘জানেন না’ বলে জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব একটা সার্বজনীন বিষয়, কোনো ব্যক্তির বিষয় না। জিয়াউর রহমান খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, এ কারণে হয়তো তার ছবি রাখা হয়েছে। এটাকে আমরা ইতিবাচকভাবে নেব। তবে বেগম খালেদা জিয়ার ছবি থাকলে সেটা ভালো হতো।’

অনুষ্ঠানে বক্তা ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এটা ছোটখাটো বিষয়।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালক স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম মুঠোফোনে বলেন, ‘ব্যানার যা ছিল ঠিকই ছিল।’

ব্যানারে খালেদা জিয়ার ছবি না থাকা নিয়ে নেতাকর্মীদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ‘আমি ব্যস্ত আছি। এখন কথা বলতে পারব না’ বলে ফোন কেটে দেন।

jagonews24

কয়েকটি ফেস্টুনে খালেদা জিয়ার ছবি দেখা যায়

লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দলটির বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত এবং পরে দলের শিল্পীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বলের পরিচালনায় দলের শিল্পীরা দলীয় সংগীত, ক্যারিওগ্রাফির মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ‘থিম সং’ এবং শিল্পী রেখা সুফিয়ানা, ইথুন বাবু ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বেবী নাজনীন দেশাত্মবোধক গান গেয়ে শোনান। অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল আলম চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক, উকিল আব্দুস সাত্তার, ভিপি জয়নাল আবেদীন, আবদুল কাইয়ুম, শাহিদা রফিক, আব্দুল কুদ্দুস, মামুন আহমেদ, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিজন কান্তি সরকার, সুকোমল বড়ুয়া, এনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার মুক্তাদির, মজিবুর রহমান সারোয়ার, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আসাদুজ্জামান রিপন ফজলুল হক মিলন, শ্যমা ওবায়েদ, বিলকিস জাহান শিরিনসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে মোস্তফা জামাল হায়দার, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, রেদোয়ান আহমেদ, আহমেদ আবদুল কাদের, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খন্দকার লুতফুর রহমান, সাইফুউদ্দিন মনি, সাহাদাত হোসেন সেলিম, আজহারুল ইসলাম, সৈয়দ এহসানুল হুদা, আবু তাহের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, ফারুক রহমান, মোস্তা্ফিজুর রহমান মোস্তফাসহ শরিক দলের নেতারাও ছিলেন।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক, জাপান, জাতিসংঘ, ইউএসএইড, আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/এমএসএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]