৭ মার্চের ভাষণ অবশ্যই জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল : মোশাররফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২১

৭ মার্চের ভাষণ অবশ্যই জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। রোববার বিকেলে ৭ মার্চের আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কাউকে ছোট বা বড় করা বা ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য এখানে আলোচনা করতে আসিনি। আমরা জনগনের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এই আলোচনা অনুষ্ঠান করছি। ১ মার্চ যেদিন একটি নির্বাচিত সংসদের অধিবেশন স্থগিত করে দিয়েছিল সেদিনই আমরা বিএনপি সুবর্ণজয়ন্তীর সারা বছরের কর্মসূচির উদ্বোধন করেছি। যা উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান। আমরা ২ মার্চ পতাকা উত্তোলন, ৩ মার্চ স্বাধীনতা ইশতেহারের দিবসটিও পালন করেছি।’

‘এরপর ৭ মার্চ। এই দিন মানুষ আশা করেছিল যেখানে ছাত্র সমাজ পতাকা উত্তোলন করেছেন আসম আসম আবদুর রব, স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছেন শাহজাহান সিরাজ, তাহলে ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা আসবে। আমি তখন উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে ছিলাম। লন্ডনে থেকে আমরা ছাত্ররা বাংলাদেশের সংগ্রামী ছাত্র সমাজ নাম দিয়ে একটি সংগঠন করেছিলাম যার আহবায়ক ছিলাম আমি। আমরা মনে করেছি ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা হবে। তখন আমরা লন্ডনে আওয়ামী লীগ, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন… যৌথভাবে হাইপার্স পিকারস কর্নারে সমাবেশ ডেকেছিলাম। সেই সমাবেশে আমরা কিন্তু স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন ও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কারণ তখন এরকমের মোবাইলের যুগ ছিল না। আমরা লন্ডনে তখনও জানতে পারেনি ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা হয়নি। এইভাবে বিবেচনা করতে হবে স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ দেশ-বিদেশে যে প্রত্যাশা করেছিল, সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় নাই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘অনেকে আমাদের প্রশ্ন করছেন যে, আপনারা আগে তো সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেন নাই। আমরা সুবর্ণজয়ন্তীর একটি দিন হিসেবে ৭ মার্চ পালন করছি। ইতিপূর্বে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আর আসে নাই। আমরা প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে এই দিনটি পালন করছি।’

‘যখন ওই সময় নির্বাচিত সংসদ ডেকে স্থগিত করে দেয়া হয়েছে তখন সারাদেশে পূর্ব পাকিস্তান উত্তাল হয়ে গিয়েছিল। কেননা এটা গণতান্ত্রিক অধিকার, পাকিস্তানের সাংবিধানিক অধিকার যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। পাকিস্তানের জান্তা তারা নানা রকমের টালবাহানা করছিল। এমনি প্রেক্ষাপটে ৭ মার্চের ভাষণ অবশ্যই ঐতিহাসিক এবং জনগণকে উদ্দীপ্ত করার জন্য, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কিছু নির্দেশনা ছিল।’

মোশাররফ বলেন, ‘এটা আমরা অস্বীকার করতে চাই না এখানে ওই বক্তব্যের পেছনে সেই সময়ের অবিসংবাদিত নেতা জনাব মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান। এটাও আমরা অস্বীকার করি না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনি যতবার জাতির উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক এবং জাতীয় সংসদে বক্তব্য রেখেছেন যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের জন্য অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে স্মরণ করতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামও স্মরণ করেছেন। তেমনিভাবে আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যতবার সংসদে বক্তব্য রেখেছেন এবং তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অবদান রেখেছেন তাদেরকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ছিল।’

‘আমরা ইতিহাসকে অবজ্ঞা করতে চাই না, আমরা ইতিহাসকে মুছে দিতে চাই না। ৭ মার্চ জনাব শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা উনি। আমি মনে করি, এই যে তার বক্তব্য-এটা সঠিক। ওই সময়ে সেটাই তার বক্তব্য রাখা উচিত ছিলে সেটাই উনি রেখেছেন। কী বক্তব্য রেখেছেন? জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। তাহলে যদি কেউ আলোচনা করে ৭ মার্চের বক্তৃতা ছিল পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যেই একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য সেই সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম-হরতাল-সমাবেশ- এটা সেই দরকষাকষির অংশ। এটা যদি বলেন তাহলে কি অন্যায় হবে?’

‘সংগ্রাম ও যুদ্ধ এক বিষয় নয়’ উল্লেখ করে ক্ষমতাসীনরা একে এক করে গুলিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

কেএইচ/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]