বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করুন : ন্যাপ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪২ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২১

বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া এ দাবি জানান।

তারা বলেন, 'সম্প্রতি ইমপালসের সাধারণ বেডে একজন রোগীর চিকিৎসার জন্য ছয়দিনের বিল ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা কিসের ইঙ্গিত বহন করে? তারা কি চিকিৎসার করাচ্ছেন নাকি রোগীদের জিম্মি করে লুট করছেন এই প্রশ্ন জনমনে সৃষ্টি হয়েছে। এই ধরনের হাসপাতালগুলো চিকিৎসার নামে জনগণের পকেট কাটার দায়িত্বটাই সঠিকভাবে পালন করে। আবার এদের মালিকরা টিভিতে নীতিবাক্য বলতে বলতে গলা শুকিয়ে ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বেসরকারি অনেক হাসপাতালেই মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সও নেই তাদের।'

ন্যাপ নেতারা বলেন, 'বেসরকারি হাসপাতালগুলো কোভিড চিকিৎসা দিলে তারা তাদের মতো করেই বিল করবে। সেই বিল চিকিৎসাপ্রার্থীকে মেটাতেও বাধ্য করা হয়। বিল না মিটিয়ে কেউ হাসপাতাল ত্যাগও করতে পারে না। আবার অস্বাভাবিক বিল করলে তা চ্যালেঞ্জ করারও কোন উপায় থাকে না। ফলে জনগণ প্রতিনিয়ত এদের দ্বারা শোষণের শিকার হচ্ছে। এরকম বহু অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও অভিযুক্ত হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জনগণ জানে না। তেজগাঁওয়ের সরকার-নির্ধারিত বেসরকারি করোনা ডেডিকেটেড ইমপালস হাসপাতালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়েও সরকার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে যানা নেই।'

তারা বলেন, 'অনিয়ন্ত্রিত বেসরকারি অনেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্দয়ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে মুমূর্ষু রোগীদের অর্থ কড়ি। ভুয়া ল্যাব টেস্ট, রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসা দিয়ে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর মুখে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষ বরাবরই অবহেলিত, প্রতারিত হয়ে আসছে। করোনা মহামারিতে চিকিৎসা সেবা হাতছাড়া হয়ে গেছে সাধারণ মানুষের। করোনাকালে দেশের গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থা পড়েছে মুখ থুবড়ে। জমজমাট হয়ে উঠেছে অসৎ চিকিৎসা বাণিজ্য। মোক্ষম এই সুযোগের ব্যবহার করছে হাসপাতাল মালিকরা। ঠগবাজি, প্রতারণা কত প্রকার ও কি কি তার প্রমাণ রেখে চলেছে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সম্পর্কিতরা।'

নেতৃদ্বয় বলেন, 'বাংলাদেশ ন্যাপ মনে করে, বাংলাদেশের বিরাজমান বাস্তবতায় চিকিৎসা ব্যয়ের ব্যাপারে একটা হার নির্ধারণ করে দেয়া খুবই প্রয়োজন। রোগীদের ভোগান্তি বন্ধে যথাযথ কার্যকর আইন প্রণয়ন ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে হাইকোর্টের একজন বিচারপতি ও দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কমিশন গঠন করেন বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ করার ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।'

কেএইচ/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]