গাজায় হামলা বন্ধে বিশ্ব নেতাদের সোচ্চার হতে বললেন বাবুনগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ১৩ মে ২০২১

পবিত্র মাহে রমজানে জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে তাণ্ডব ও ফিলিস্তিনের গাজায় নিরস্ত্র মানুষের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আহ্বায়ক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলি সন্ত্রাস ও নির্যাতন বন্ধ ও দখলদারিত্বের অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) এক বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসায় পুরো রমজানজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী সহিংসতার কেন্দ্রস্থলে পরিণত করে রেখেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় সেখানে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এরপর গাজায় বিমান হামলা চালানো হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৬৫ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা চালিয়ে ইসরায়েল সুস্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং একইসঙ্গে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। অথচ জাতিসংঘ, ওআইসি, আরব দেশগুলো লোক দেখানো কিছু বুলি আওড়ানো ছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় কার্যকর কিছুই করছে না। তারা অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের সন্ত্রাসিী কর্মকাণ্ডকে নীরবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

বাবুনগরী বলেন, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। বিপরীতে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও নিরঙ্কুশ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রতিদিন নতুন নতুন ফিলিস্তিনি এলাকা দখলে নিচ্ছে ইসরায়েল। তাদের নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত করে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন নতুন ইহুদিবসতি। ফিলিস্তিনিরা রক্ত ঝরিয়ে প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু সন্ত্রাসী কায়দায় সেই প্রতিবাদ দমন করছে ইসরায়েল।

হেফাজতের আহ্বায়ক ওআইসি, আরব লীগ ও মুসলিম দেশসমূহের নতজানু নীতি ও পারস্পরিক অনৈক্যে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ওআইসি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ফিলিস্তিনিদের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা ও মসজিদুল আল-আকসাকে দখলদারমুক্ত রাখার প্রত্যয় নিয়ে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের লাগাতার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ওআইসির ধারাবাহিক নীরবতা সংস্থাটির কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বাবুনগরী আরও বলেন, গাজার আড়াই লাখের বেশি ফিলিস্তিনির ওপর অবরোধ চাপিয়ে দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম খোলা কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে নিঃশর্তে তা তুলে নিতে হবে। পশ্চিম তীর এবং সমস্ত আরব ভূখণ্ডে অবৈধ দখল ও উপনিবেশ স্থাপনের অবসান করতে হবে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বসবাসরত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সম্পূর্ণ নাগরিক ও মানবাধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের সংঘটিত সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের তদন্ত ও আন্তর্জাতিক বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। আল-আকসা মসজিদকে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগির জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ জন্য তিনি জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিশ্ব মুসলিম ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে জরুরিভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জোর আহ্বান জানান।

মিজানুর রহমান/এএএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]