জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীর সভায় করতালি, ক্ষুব্ধ ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ১০ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৯:১৪ পিএম, ১০ জুন ২০২১

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতারা বক্তব্য দেয়ার শুরুতে, মাঝে এবং শেষে করতালি ও স্লোগান দিচ্ছিলেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১০ জুন) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আলোচনা সভা কাকে বলে সেটা বুঝতে হবে, কনফারেন্স কাকে বলে সেটা বুঝতে হবে, সংলাপ কাকে বলে বুঝতে হবে। তা যদি না বুঝি তাহলে রাজনৈতিক দলের সদস্য হলাম কেন?’

ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন থেকে লক্ষ্য করছি, আপনাদের প্রিয় নেতারা যখনই বক্তব্য দিচ্ছেন, আপনারা শুধু স্লোগান দিচ্ছেন, হাততালি দিচ্ছেন। অথচ আজ হাততালি দেওয়ার কথা নয়! মঞ্চ থেকে বারবার বলা হয়েছে, হাততালি দেবেন না, এটা হাততালির অনুষ্ঠান নয়। আপনারা দিয়েই যাচ্ছেন। বক্তার যে আসল কথা কেউ শোনেন না। এখানে প্রচণ্ড গরম। সবাই অস্থির হয়ে যাচ্ছে। গরমে সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারপর আপনাদের স্লোগান। স্লোগান অত্যন্ত ভালো জিনিস ভাই, চলেন না রাজপথে গিয়ে স্লোগান দেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমার তো কম অভিজ্ঞতা হয়নি। অনেক, বয়স ৭৩ পার হয়েছে। এই যে ইশরাকের আব্বা সাদেক হোসেন খোকা যখন ঢাকা মহানগরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন থেকে তো আমি আছি। দয়া করে ওই জিনিসগুলো মনে রাখবেন। আজকে এখানে বসেছি আমরা, মিলিত হয়েছি আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানার জন্য। ইচ্ছা ছিল আজকে আপনাদের তার সম্পর্কে বলব। কিন্তু এখন আর বলার কোনো অবকাশ নেই। সেই মানসিকতাও নাই।

আপনারা সেটা শুনতেও আসেননি। যাই হোক এটা আপনারা মনে রাখলে খুশি হবো। সবাই খুশি হবে, উপকৃত হবে। দেশবাসী জানতে পারবে যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে ছিলেন? এই যে সাত-দিন আট-দিন ন-দিন দশ-দিন ধরে আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী পালন করছি, কেন করছি? কারণ তার সম্পর্কে দেশের মানুষকে জানাতে চাই। এজন্য করছি যে, আওয়ামী লীগ আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করছে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আপনারা নেতাদের নামে স্লোগান দিচ্ছেন। আজকে বেগম খালেদা জিয়া কোথায়? আপনারা কেউ তার মুক্তি দাবি করে স্লোগান দেননি!’

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মাঝে স্মিত হেসে সভার সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘স্যার আপনি বলেন সবাই শুনবে।’ জবাবে ফখরুল বলেন, ‘এখানে বলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আজকের অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে স্লোগান দেন।

এদিকে, সভার ডায়াসে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নেতাদের আসন বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দায়িত্বশীল নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের গত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে সভামঞ্চের মাঝে বসানো হয়েছে অথচ তার চেয়ে সিনিয়র নেতাদের ডান পাশে বসানো হয়েছে, যাতে জ্যেষ্ঠতার প্রটোকল ভঙ্গ হয়েছে।’

দলের সভামঞ্চে কীভাবে আসন বণ্টন করা হয় জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ‘সংগঠনের পদবি অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হয়।’

কেএইচ/এসএস/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]