আ.লীগের প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন আছে : আরেফিন সিদ্দিক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:৪০ এএম, ২৩ জুন ২০২১
ফাইল ছবি

‘বঙ্গবন্ধু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় এদেশ সামরিক শাসন ও স্বৈরশাসনের যাতাকলে ছিল। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে আবারও সেই ১৫ আগস্টের মতো আরেকটি ঘটনা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এই ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত মোকাবিলা করে যে দল এগিয়ে যায়, তখন বুঝা যায় সেই দলের পেছনে সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থন আছে’ এমনটি দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপার্চায অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

২৩ জুন আওয়ামীলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাগো নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।

আওয়ামী লীগ যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বর্তমানে সেটি থেকে সরে আসছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে দীর্ঘদিন দল পরিচালনা করে গেছেন, বলতে গেলে মৃত্যুর আগমুহূর্ত র্পযন্ত যেভাবে দল পরিচালনা করে গেছেন আজকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই পথ অনুসরণ করেই আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। আওয়ামী লীগের যে প্রাক্তন শক্তি সেটা জনগণ। জনগণের দল আওয়ামী লীগ। জনগণের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে সম্পৃক্ততা সেটা বজায় আছে বলেই শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে নানা ধরনের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

বিরোধী দলের প্রতি আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের যে অভিযোগ- এতে দেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, একটা গণতান্ত্রিক দেশে সরকার থাকবে, বিরোধী রাজনৈতিক দল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যেটা আমাদের দেশে সমস্যা হয়ে গেছে, সরকার যদি বিরোধী দলের নেত্রীকে তার শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ হত্যার ষড়যন্ত্র করে তখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে বিশ্বাস তা আর থাকে না। কিন্তু তারপরেও ২০২১ সালে এসে যখন আমরা দেখি এখনো কোনো কোনো রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহির্ভূত কথা প্রচার করে, তখন সত্যের দিক থেকে অনেক রাজনৈতিক দলের বিচ্যুতি ঘটে।’

তিনি বলেন, ‘একটা গণতান্ত্রিক দেশে নানা মত থাকবে, নানা পথ থাকবে, নানা দর্শন থাকবে সেটিই স্বাভাবিক। বিরোধী দল, সরকারি দল না থাকলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে কিভাবে? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সত্য। এই সত্যের প্রতি আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সত্যকে অস্বীকার করে কোনো রাজনীতি কখনো স্থায়ী হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগ সবচেয়ে প্রাচীনতম দল। আওয়ামী লীগ থেকে সবসময় একটা উদ্যোগ থাকবে যেন সকল রাজনেতিক দলের মাঝে সত্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সত্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশেষ করে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। যারা রাজনীতি করবে তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে। এটাই স্বাভাবিক। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

ঢাবির সাবেক এই উপচার্য বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে আমরা উন্নত বিশ্বে রূপান্তরিত হতে চাই। শেখ হাসিনার যেমন ২০৪১ সালের রূপরেখা দেয়া আছে। এই দীর্ঘসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হয়তো ক্ষমতায় আসবে কিন্তু দেশের উন্নয়নের জন্য এই যে রূপরেখা দেয়া আছে, সেই জায়গায় পৌঁছাতে হলে সত্যের ঐক্য এ কথার ওপর আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। সত্যের ঐক্য বজায় রেখে আমরা এগিয়ে যাব এই প্রত্যাশা করি।’

প্রশাসনকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে দমন করার অভিযোগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। এটি কি কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ কিংবা নীতি হওয়া উচিত? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রশাসন প্রশাসনের জায়গায় থাকবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সেটা নির্ধারণে ব্যবস্থা নেবেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশ কীভাবে এগিয়ে যায়, সেখানে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয় সেটা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা দেখবেন। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রশাসনের বিরোধ কেন হবে? সরকারের যে নিয়মকানুন, রাষ্ট্রের যে নিয়মকানুন, সেটি মেনে চললে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধ হওয়ার কথা না। যদি কোনো বিরোধ হয়ও সেখানে আইন আছে, সর্বোচ্চ আদালত আছে। সেখানে সেটি নিষ্পত্তি হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রচারণা করা, অপপ্রচার চালানো, সরকারকে দোষী করার মতো বিষয় আমরা লক্ষ্য করি। সেটা হয়েছে সামরিক শাসন ও স্বৈরাশাসনের সময় থেকে। কারণ তখন গণতন্ত্রের লেশমাত্র ছিল না। তখন প্রশাসনকে নানাভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে নানা সময়ে আমরা কখনো কখনো এই সমস্যাগুলো দেখি। সেটি গণতান্ত্রিকভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের যে অভিযোগ সেই অভিযোগের মধ্যে আমি কোনো সত্যতা খুঁজে পাই না। যদি কোনো অভিযোগ সুনির্দ্দিষ্টভাবে উত্থাপিত হয়, তাহলে সে বিষয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে কথা বলতে পারি।’

শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি হতে পারে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এটি নিয়ে ভাবছি না। শেখ হাসিনা হচ্ছেন সারাদেশের মানুষের আস্থার জায়গা। মানুষ একজন মানুষকে বিশ্বাস করেন, তিনি শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে এই দেশ আরও দীর্ঘদিন এগিয়ে যাক, আজকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে সেই প্রত্যাশা করি।’

আল-সাদী ভূঁইয়া/এআরএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]