লকডাউন ও কারফিউ কোনো সমাধান নয় : জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১০ পিএম, ৩০ জুলাই ২০২১
ফাইল ছবি

দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ও কারফিউ কোনো সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। করোনা মোকাবিলায় গণটিকা কর্মসূচি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, দেশের বাস্তবতায় লকডাউন সফল হবে না। লকডাউন চলছে কিন্তু মানুষকে ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার জরিপ বলছে, করোনায় একবছরে দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষের জীবনমান নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। আর আগে থেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে আরও সাড়ে তিন কোটি মানুষ। বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষের ঘরে খাবার নেই, পকেটে ওষুধ ও শিশুখাদ্য কেনার পয়সা নেই। এ ধরনের মানুষকে ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় করোনা চিকিৎসায় ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে হবে।

বিবৃতিতে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যে সাহায্য দেয়া হচ্ছে তা একদিকে অত্যন্ত অপ্রতুল এবং একইসঙ্গে এর একটি বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্রদের হাতে পৌঁচ্ছাছে না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ও কারফিউ কোনো সমাধান দিতে সক্ষম হচ্ছে না।

লকডাউন চলছে কিন্তু প্রতিদিন সরকারি হিসাবেই প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নতুন করে করোনা আক্রান্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মৃত্যু হচ্ছে প্রতিদিন এখন দুইশোর ওপরে। সাধারণ মানুষের ধারণা এই সংখ্যা হয়তো আরও বেশি। আক্রান্ত ও মৃত্যুহার ঊর্ধ্বগামী এবং কমার কোনো লক্ষণ বা কারণ দেখা যাচ্ছে না।

বাস্তবে লকডাউনে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, লকডাউনে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও খেটে খাওয়া মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। প্রতিদিন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে তাদের আহাজারি। সে কারণেই গণটিকা জোরদার করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে।

এসএম/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]