ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে আশাবাদী ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৬ পিএম, ০৩ আগস্ট ২০২১

ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরার বাসায় মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই দুটি কমিটি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি দুটির প্রতি সারাদেশে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এরা সবাই পরীক্ষিত নেতা। আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক যে প্রেক্ষাপট সেই প্রেক্ষাপটে এটা (নতুন কমিটি গঠন) নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে যে, এ কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে যে অগণতান্ত্রিক একটি সরকার যে আমাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট করে দিচ্ছে, সেখানে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, ভূমিকা রাখবেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সবার যে প্রত্যাশা সেই প্রত্যাশা হচ্ছে যে, অত্যন্ত সক্রিয়, সচল এবং কার্য্করী এই আহ্বায়ক কমিটি তারা দ্রুত দলকে সুসংগঠিত করবে এবং একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করবে।

কবে নাগাদ মহানগরের কাউন্সিল হতে পারে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা তো আমাদের যে গঠনতন্ত্র আছে সেই গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিল করবে। সেটা তিন মাস।

বর্তমান কমিটি নিয়ে ক্ষোভ আছে যে মূ্ল্যায়ন করা হয়নি- এ রকম প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি একটা বিশাল রাজনৈতিক দল। সেই দলের যখন একটি কমিটি তৈরি করা হয় তখন ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। আমরা যেটা দেখছি যে, একবারে পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই এই কমিটি করা হয়েছে। প্রবীণ এবং নবীনের সমন্বয়ে করা হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে একটা কার্যকরী কমিটি হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

সোমবার আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে উত্তরের ৪৭ সদস্য এবং আবদুস সালামের নেতৃত্বে দক্ষিণের ৪৯ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উত্তরের সদস্য সচিব হয়েছেন আমিনুল হক এবং দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু।

মহানগর উত্তরের নতুন আহ্বায়ক দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেন, আজ গণতন্ত্র অনুপস্থিত, একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলছে। নির্যাতন-নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। সে জন্য সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা জনগণ যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারে, একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে যাতে নির্বাচন হতে পারে, সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হয় সেই লক্ষ্য সফল করার জন্য আমরা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ একসঙ্গে একযোগে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাজ করব। যদি প্রয়োজন হয় ১৯৯০ সালের মতো আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই নব্য স্বৈরাচারী অগণতান্ত্রিক, অবৈধ, মিডনাইটের সরকারকে রাষ্ট্রক্ষমতাকে সরানো আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম করব।

মহানগর দক্ষিণের নতুন আহ্বায়ক চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম বলেন, আমরা চেষ্টা করব যাতে এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে। সে ব্যাপারে মহাসচিব থেকে শুরু করে মহানগরসহ দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর সহযোগিতা চাই। আমরা উত্তর-দক্ষিণ মহানগর একসঙ্গে সমবেতভাবে মহানগরীতে কাজ করার চেষ্টা করব, যাতে কোথাও কোনো গ্যাপ সৃষ্টি না হয়, কোনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়। সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই।

নতুন কমিটি গঠনের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিবের প্রতি কৃতজ্ঞতা দুই আহ্বায়কই প্রকাশ করেন।

এই সময়ে মহানগরের রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, আবদুল আলিম নকি, তাবিথ আউয়াল, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, নবীউল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, মো. মোহন, আতিকুল ইসলাম মতিন, মোশাররফ হোসেন খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, মহানগর উত্তর যুবদলের এসএম জাহাঙ্গীর, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আমান ও আব্দুস সালামের নেতৃত্ব নতুন আহ্বায়ক কমিটির নেতারা বিএনপি মহাসচিবের বাসায় নিজস্ব চেম্বারে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। মির্জা ফখরুল নবগঠিত কমিটির নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।

কেএইচ/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]