‘স্বৈরাচার জিয়া-এরশাদের পদলেহন করেছেন জাফরুল্লাহ’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২১

গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্বৈরাচার জিয়া-এরশাদের পদলেহন করেছেন বলে দাবি করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিআইডব্লিউটিএ ভবনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী চরম মিথ্যাচার করছেন দাবি করে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার খুব করুণা হয়। বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ, তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, আমার ভাবতে অবাক লাগে, গণস্বাস্থ্যের জাফরুল্লাহ সাহেব গতকাল এত বড় মিথ্যাচার করেছেন। যেটা ভাষায় বলার মতো নয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, ’৮১ সালে দেশে এসে বলেছিলেন, আমার বাবা-মাকে হত্যা করা হয়েছে। তোমরা কাঁদো নাই। আমি তোমাদের কাঁদায়ে ছাড়বো। তাই উনি আজকে আমাদের কাঁদাচ্ছেন।’

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কথা তিনি কোথায় পেলেন! এত বড় মিথ্যাচার করতে পারে মানুষ। যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু তাকে গণস্বাস্থ্য করার জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই গণস্বাস্থ্য।

ডা. জাফরুল্লাহকে উদ্দেশ করে খালিদ মাহমুদ আরও বলেন, স্বৈরাচার জিয়া-এরশাদের পদলেহন করেছেন আপনি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার কারণে আমরা আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনার জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। অথচ আজ আপনি সেসব অপরাধীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ছিলেন। এখন যখন দেখছেন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আপনার এটা সহ্য হচ্ছে না। আপনি নতুন ষড়যন্ত্র করছেন। এমন একজন শিক্ষিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ যদি মিথ্যাচার করে, তখন মানুষ বিভ্রান্ত হতেই পারে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ’র মতো এমন অনেক বর্ণচোরা মানুষ এখনো লুকিয়ে আছে। আমাদের তাদের চিহ্নিত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।

jagonews24

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রতিশোধপরায়ণ হলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার এভাবে হতো না। খুনিদের আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। সব ধরনের আইনি নিয়ম অনুসরণ করেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। নিম্ন আদালতের রায়ের পর বিএনপির আমলে ২০০১ সালের পর হাইকোর্টে ১১ বার বিচারকরা বিব্রতবোধ করেছে। তারা বিচারক ছিলেন না; তারা সেই সময়ের সরকারের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছয় বছর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার উচ্চ আদালতে আটকে ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেই রায় কার্যকর হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে, ষড়যন্ত্র আমরা মোকাবিলা করেছি। এ করোনা মহামারির মধ্যে মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে ষড়যন্ত্রের পথ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো ষড়যন্ত্র আর আমাদের আটকাতে পারবে না। কারণ বাংলাদেশের জনগণ বুঝে গেছে সত্য কোনটা। সত্য-ন্যায়ের পথে থাকলে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। আজকের বাংলাদেশ সেটাই প্রমাণ করে।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধান পাল্টে দেয়া, খুনিদের পুনর্বাসন ও রাজনীতি করার সুযোগ, বিচারের পথ রুদ্ধ করাসহ সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এস এম আলী কবীর, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম লায়লা জেসমিন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর আবু জাফর মো. জালাল উদ্দিন ও বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক।

এসইউজে/এআরএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]