গ্রামের মানুষের যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়টি পীড়িত করে

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ এএম, ২৪ আগস্ট ২০২১

শহিদুল ইসলাম বাবুল। বিএনপির ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। ফরিদপুরের এ রাজনীতিক বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিকল্প মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি। তবুও নিজের সাংগঠনিক ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা- সালথা- কৃষ্ণপুর) আসন ঘিরে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এ আসন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জাগো নিউজকে জানিয়েছেন শহিদুল ইসলাম বাবুল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন।

জাগো নিউজ: রাজনীতিতে কেন এলেন? শুরুটা কেমন ছিল?

শহিদুল ইসলাম বাবুল: রাজনীতিতে কেন এলাম? এর একক কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। আমার মরহুম বাবা একজন রাজনীতি সচেতন মানুষ ছিলেন। তিনি দেশ ও রাজনীতির খবর রাখতেন। স্বাধীনতা-উত্তর কালে আওয়ামী লীগের সীমাহীন দুর্নীতি ও অপশাসনের কথা শুনে শুনে আমরা বড় হয়েছি। সঙ্গত কারণে তখন থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতি এক ধরনের বিরূপ ধারণা মনের মধ্যে জমাট বেঁধেছিল। সম্ভবত সেজন্য মনে হয় কলেজজীবন থেকে রাজনীতিতে জড়ানো, তার একটি প্রতিফলন পরবর্তী সময়ে দেখা যায়। তাছাড়া ‘শহীদ’ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমার একটা ছোট্ট স্মৃতি আছে। আমি তখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের প্রাইমারি স্কুলের মাঠ দিয়েই চলে গেছে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক। রাষ্ট্রপতি (জিয়াউর রহমান) একদিন সেই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা ছাত্ররা লাইন করে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে, রাষ্ট্রপতি গাড়িতে বসেই আমার মাথার ওপর হাত রেখেছিলেন। সেটুকু বয়সে আমি বুঝেছিলাম, মুহূর্তেই আমার গোটা শরীরে যেন বিদ্যুতের একটা প্রবাহ বয়ে গেল।

সেই (হুসেইন মুহম্মদ) এরশাদ জমানায় কলেজজীবন থেকে পুরোদস্তর রাজনীতিতে জড়ালেও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে, রাজনীতি বা দেশের বিষয়ে একটা লক্ষ্য ভেতরে দারুণভাবে প্রোথিত হয়। এখানে এসে বড় ভাই ও জাতীয় নেতাদের দেখে উজ্জীবিত হই এবং তাদের মতো নেতৃত্ব দেওয়ার একটা আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়। শুরুটা খেয়াল বা আবেগ, উত্তেজনার মধ্যে দিয়েই কেটে যায়। সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না।

জাগো নিউজ: আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অনুপ্রেরণা এবং চ্যালেঞ্জ কী?

শহিদুল ইসলাম বাবুল: রাজনৈতিক জীবনে আমার অনুপ্রেরণা আমার নেতা (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) তারেক রহমান। মূলত তার ভালোবাসা ও স্নেহের কারণেই আজকের রাজনীতিতে আমার বিচরণ ও টিকে থাকা। তাছাড়া আমার প্রিয় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতাদের অনেক ভালোবাসা ও স্নেহাশিস আমি পেয়েছি। আমাদের এলাকার নেতাকর্মী, গণমানুষ ও দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা দলের অসংখ্য নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের শর্তহীন ভালোবাসা এবং সমর্থন আমাকে ঋণী করে, উজ্জীবিত করে, উদ্দীপ্ত করে।

বর্তমান রাজনীতিতে চ্যালেঞ্জ হলো, সবাই মিলে বর্তমান গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট ও মাফিয়া সরকারকে উৎখাত করে একটি গণতান্ত্রিক ও ইনসাফের দেশ এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য আমরা আমাদের সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত।

jagonews24

জাগো নিউজ: রাজনীতি যারা করেন তারা স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কাজ করবেন, রাজনীতিক মাত্রই এমন প্রত্যাশা থাকে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ রাজনীতিকেরই একটা নির্দিষ্ট আসন থাকে। সে হিসেবে অনেকেই মনে করেন ফরিদপুর-২ আসনে আপনি বিএনপির একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ আসন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

শহিদুল ইসলাম বাবুল: দলের পক্ষ থেকে আমার জন্য কোনো নির্বাচনী আসন সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। আমাদের দলে কাউকে আসন সুনির্দিষ্ট করে দেওয়ার কোনো পদ্ধতিও নেই। আমার জন্মস্থান ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা-কৃষ্ণপুর) আসনে মনোনয়নের জন্য অনেক আগে থেকেই আমি সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে আমাকে বিকল্প মনোনয়নেও রাখা হয়েছিল। তবে চূড়ান্তভাবে আমি মনোনীত হতে পারিনি। যদিও আমার প্রত্যক্ষ রাজনীতির বয়স নিরবচ্ছিন্ন ৩৪ বছর। আমি সব সময় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। বাকিটা আমার দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনা।

ফরিদপুর-২ আসন নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষা আছে। যদি কোনোদিন সুযোগ পাই, তাহলে চেষ্টা করবো—আমাদের এলাকাকে শিক্ষা ও প্রযুক্তিবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে। তাছাড়া কৃষিনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। আমি সেবার সুযোগ পেলে অবশ্যই আমাদের এলাকা হবে সমতা, ইনসাফ ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার রোল মডেল।

গ্রামাঞ্চলের খুব কম মানুষই যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পায় না। বিষয়টা আমাকে খুবই পীড়িত করে। মানুষের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আমার প্রচেষ্টা হবে সর্বাত্মক ও আগ্রাসী।

জাগো নিউজ: আপনার দৃষ্টিতে ফরিদপুর-২ আসনের সমস্যা এবং সম্ভাবনা কী?

শহিদুল ইসলাম বাবুল: আমাদের এলাকার মানুষ অত্যন্ত সহজ সরল ও ধর্মভীরু। তারা খুব পরিশ্রমীও বটে। গোটা এলাকার মানুষের জীবিকা মূলত কৃষিনির্ভর। পেঁয়াজের প্রচুর আবাদ হয় এখানে। মাটি খুব উর্বর। আমার ইচ্ছা ছেলে-মেয়েদের মাদক থেকে দূরে রেখে যদি মানসম্মত ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেয়া যায়, তাহলে তারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারবে। কৃষির জন্য আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চাষাবাদের ব্যবস্থা ও প্রচারণা চালাতে হবে এখানে।

jagonews24

জাগো নিউজ: স্থানীয় রাজনীতি এবং জাতীয় রাজনীতির মধ্যে ব্যবধান থাকাটা স্বাভাবিক। আপনার আসনের জনসাধারণ রাজনৈতিকভাবে কতটা সচেতন বলে মনে করেন?

শহিদুল ইসলাম বাবুল: ব্রিটিশ আমল থেকেই আমাদের গোটা ফরিদপুর ও অঞ্চল রাজনৈতিকভাবে অনেক সচেতন ও সমৃদ্ধ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকেই অনেক গুণী রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও তাত্ত্বিক নেতার জন্ম হয়েছে আমাদের এলাকায়। ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্ভাবক হাজি শরীয়তুল্লাহ তাদের অন্যতম। সে কারণে আমাদের এলাকার মানুষ অনেক আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে অনেক সচেতন ও সমৃদ্ধ।

জাগো নিউজ: ফরিদপুর-২ আসনের জনসাধারণের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী?

শহিদুল ইসলাম বাবুল: আমার অঞ্চলের মানুষের কাছে আমার আবেদন, আপনারা সব সময় সৎ, নিষ্ঠাবান, শিক্ষিত, নিবেদিত, বিনয়ী মানুষ ও তার দলের পাশে থাকবেন, সমর্থন করবেন, শক্তি জোগাবেন। তাহলে দিন শেষে অবশ্যই আপনি তার সুফল পাবেন।

কেএইচ/এইচএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]