‘আ.লীগের দরজা খুলে দিলে বিএনপির ঘর শূন্য হয়ে যাবে’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০২১

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এখন বিএনপি আছে লাশের রাজনীতি নিয়ে। তারা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নাই। প্রধানমন্ত্রী চান না যে, দলে কোনো অনুপ্রবেশ ঘটুক। প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিক চরিত্র হনন চান না। প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের দরজা খুলে দিলে বিএনপির ঘর শূন্য হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলরা জানেন না, তারা ডানে-বামে পেছনে কাউকেই পাবেন না। যদি প্রধানমন্ত্রী ইশারা দেন। কারণ আদর্শহীন, নীতিহীন একটি রাজনৈতিক দল জিয়াউর রহমান গঠন করেছিলেন খুনিদের নিয়ে, অপরাধীদের নিয়ে। বাংলার মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে, খুনি-অপরাধীদের সঙ্গে আমরা নাই। আমরা সত্য ও সুন্দরের সঙ্গে আছি। সত্য ও সুন্দর হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু।

সোমবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। পৃথিবীর অনেক রাজনৈতিক নেতা নিহত হলেও সপরিবারে এভাবে নারী-পুরুষ, গর্ভবতী নারী, শিশু এতো মানুষকে এভাবে কোথাও হত্যা করা হয়নি। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউর রহমান। একটি হত্যাকাণ্ড কীভাবে দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল, আমরা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর দেখেছি।

তিনি বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে জিয়াউর রহমান কীভাবে অপপ্রচার চালিয়েছেন! কীভাবে কলুষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কীভাবে নোংরা কল্পকাহিনী সাজিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু একটি অপরাধকে, একটি হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করার জন্য জিয়াউর রহমান এই কল্পকাহিনী বানিয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতা এরশাদ ও খালেদা জিয়া একইভাবে পালন করেছেন। আজকের বাস্তবতায় বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের বন্ধু নয়; বঙ্গবন্ধু বিশ্বের বন্ধু।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুকে লালন করি বলেই আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা বারবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বলেই সোনার বাংলা বিনির্মাণ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের সমালোচনা করা হয়; ১৩৯টি আইন অধ্যাদেশ দিয়ে কীভাবে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে, প্রতিটি বিষয়ে ফাউন্ডেশন (ভিত্তি) বঙ্গবন্ধু দিয়ে গেছেন। এই কথাগুলো বলা হয় না।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মাথায় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে কীভাবে গোলযোগ করা হয়েছে। সর্বহারা নামে বিদেশি বেনিয়াদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া হয়েছে। সাড়ে তিন বছরের একটি নতুন দেশে অরাজকতা তৈরি করে ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তারপরও এ দেশকে দারিদ্র্যপীড়িত দেশ থেকে স্বল্পোন্নত দেশে নিয়ে গেছেন। স্বাধীনতাবিরোধীরা যখন ব্যর্থ হয়ে গেছে, তখনই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে।

নৌ-পর্যটনে বিআইডব্লিউটিসির সম্পৃক্ততা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা দুটি ক্রুজ ভ্যাসেলের চুক্তিপত্র করেছি। এ দুটি ভেসেলে সব আন্তর্জাতিক সুবিধা থাকবে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই এ জাহাজ দুটি পেয়ে গেলে বিদেশি পর্যটকরাও এখানে আগ্রহ দেখাবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের কথা চিন্তা করেই বিআইডব্লিউটিসিকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (সিবিএ) সভাপতি ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মো. মহসিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান, কার্যকরী সভাপতি মো. আলাউদ্দিন মিয়া, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, সাহাবুদ্দিন মিয়া, মো. মশিকুর রহমান, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম ও বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুন্সী জুলহাস রহমান।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতাসহ ১৫ আগস্ট শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এমইউ/এআরএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]