সুযোগ পেলে সমাজকে মাদকমুক্ত করার চেষ্টা করবো

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৭ এএম, ৩১ আগস্ট ২০২১

আমিরুজ্জামান খান শিমুল। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। দায়িত্ব পালন করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের। ঝিনাইদহ-৩ আসনের (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) এ রাজনীতিক বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি। তবু আসনটিতে নিজের সাংগঠনিক ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০২৩ সালের শেষ দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এ আসন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জাগো নিউজকে জানিয়েছেন আমিরুজ্জামান খান শিমুল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন।

জাগো নিউজ: রাজনীতিতে কেন এলেন? শুরুটা কেমন ছিল?

আমিরুজ্জামান খান শিমুল: দেশের জন্য এবং এলাকার মানুষের জন্য ভালো কিছু কাজ আমি যেন করে যেতে পারি। যেসব ভালো কাজের জন্য মানুষ যুগ যুগ মনে রাখবে, এটাই আমার রাজনৈতিক জীবনের লক্ষ্য।

১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রাজনীতি শুরু করি। আমার কাছে তখন মনে হয়েছে এই দেশের জন্য মানুষের জন্য কিছু করার জন্য রাজনীতি হচ্ছে শ্রেষ্ঠ প্ল্যাটফর্ম। এই চিন্তা থেকেই রাজনীতিতে পুরো মাত্রায় সক্রিয় হই। এই সক্রিয়তা বাড়ানোর জন্য আমি পরে এক বছর ড্রপ দিয়ে আবার নতুন করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হই। তখন আমি থাকতাম মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে।

jagonews24

জাগো নিউজ: রাজনীতি যারা করেন তারা স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কাজ করবেন, রাজনীতিক মাত্রই এমন প্রত্যাশা থাকে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ রাজনীতিকেরই একটা নির্দিষ্ট আসন থাকে। সে হিসেবে আপনার সমর্থকদের অনেকে মনে করেন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে আপনি বিএনপির একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ আসন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

আমিরুজ্জামান খান শিমুল: ঝিনাইদহ-৩ আসনে এর আগে কোনো দলেরই তেমন কেউ কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে রাজনীতি করেননি। আমিই প্রথম। তাই আমি মনে করি আমাদের এলাকার নেতাকর্মীরা এখন যেমন কোনো দলীয় কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় দিক-নির্দেশনা, সুযোগ-সুবিধা আগে পায়, ঠিক তেমনি দল যদি কোনো দিন ক্ষমতায় যায়, এলাকার সর্বস্তরের মানুষ রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকারও আমার মাধ্যমে দ্রুত নিশ্চিত করতে পারবে।

জাগো নিউজ: আপনার দৃষ্টিতে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সমস্যা এবং সম্ভাবনা কী?

আমিরুজ্জামান খান শিমুল: আমাদের ঝিনাইদহ-৩ আসনের সবই সমতল ভূমি, আমরা এখানে আধুনিক উপায়ে চাষাবাদ করে বেকার সমস্যা দূর করতে পারি।

কোনো কলকারখানা নেই বললেই চলে। আমরা ক্ষমতায় এলে অবশ্যই এলাকায় সময়োপযোগী কারখানা গঠন করার জন্য সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে কারখানা স্থাপনে সচেষ্ট হবো।

আমাদের এলাকা ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা। সঙ্গত কারণে এখানে মাদকের থাবা একটু বেশি। সেই সঙ্গে মাদক সিন্ডিকেট, তাদের গডফাদার ছাড়াও বিভিন্ন চোরাচালান সিন্ডিকেটের লোকজন সবসময় এখানে বেশ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। আমি যদি কোনো দিন ক্ষমতা পাই, তখন অবশ্যই এই সমাজকে মাদকমুক্ত করার চেষ্টা করবো এবং চোরাচালান সিন্ডিকেট ধ্বংস করার চেষ্টা করবো।

jagonews24

জাগো নিউজ: আপনার আসনের জনসাধারণ রাজনৈতিকভাবে কতটা সচেতন বলে মনে করেন?

আমিরুজ্জামান খান শিমুল: আমাদের এলাকার মানুষ বেশিরভাগ শিক্ষিত এবং রাজনৈতিক সচেতন। ছোটখাটো একটু সমস্যা থাকলেও প্রায় সব স্থানীয় নেতা কেন্দ্রীয় রাজনীতিকদের যোগ্য সম্মান দিয়ে থাকেন। যে কারণে কোনো কাজকর্ম করতে তেমন সমস্যা হয় না।

জাগো নিউজ: ঝিনাইদহ-৩ আসনের জনসাধারণের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী?

আমিরুজ্জামান খান শিমুল: আমার এলাকার মানুষের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য, আপনারা এখনকার মতো ঐক্যবদ্ধ থাকুন মিলেমিশে কাজ করুন, সামনে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে সুন্দর দিন।

কেএইচ/এইচএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]